আন্তর্জাতিকইন্ডিয়া

ভারতে মুসলিমকে বাঁচানোয় হিন্দু যুবকের জিম বয়কট করছে হিন্দুত্ববাদীরা

উত্তরাখণ্ডের কোটদ্বারে ঘটেছে এমন এক ঘটনা, যা সামাজিক একীকরণ ও ধর্মনিরপেক্ষতার বার্তা বহন করছে। শহরের বহু পুরোনো ‘বাবা স্কুল ড্রেস’ দোকানের ৭০ বছর বয়সী মুসলিম মালিক ওয়াকিল আহমেদকে লক্ষ্য করে বজরং দলের একাংশ তোপ দাগে, কারণ তারা মনে করে মুসলিম একজন ব্যক্তির জন্য ‘বাবা’ শব্দ ব্যবহার করা উচিত নয়। তারা যুক্তি দেখায়, ‘বাবা’ শব্দটি হিন্দু ধর্মীয় ঐতিহ্যের সঙ্গে যুক্ত এবং সিদ্ধবলি বাবা হনুমান মন্দিরের কারণে এটি ব্যবহার অনুচিত।

দোকানদারের পক্ষে এগিয়ে আসে দীপক কুমার নামে এক হিন্দু যুবক। পরিস্থিতি মোকাবিলার সময় দীপক নিজেকে পরিচয় দেন ‘মোহাম্মদ দীপক’ নামে। তিনি জানান, তার উদ্দেশ্য ছিল সামঞ্জস্যপূর্ণ বার্তা পৌঁছে দেওয়া—তিনি কেবল একজন ভারতীয় নাগরিক, যার ধর্মীয় পরিচয় তাকে লক্ষ্যবস্তু বানাতে পারবে না। দীপক বলেন, মানবতাই শ্রেষ্ঠ ধর্ম, কারণ মৃত্যুর পর কেবল মানুষের কাজই টিকে থাকে।

ঘটনার প্রেক্ষাপটে জানা গেছে, এলাকায় আরও অনেক দোকানে ‘বাবা’ শব্দ ব্যবহৃত হয়, কিন্তু কেবল ধর্মের ভিত্তিতে আহমেদকে টার্গেট করা হয়েছে। দীপকের নিজ জীবনের ওপর এই পরিস্থিতির প্রভাবও মারাত্মক—তার জিম ‘হাল্ক জিম’-এর সদস্যসংখ্যা ১৫০ থেকে নেমে মাত্র ১৫-এ দাঁড়িয়েছে। মাসিক ভাড়া এবং বাড়ির ঋণ মিলিয়ে আর্থিক চাপের মধ্যেও তিনি মায়ের চায়ের দোকান চালিয়ে সংসার চালাচ্ছেন।

তবুও দীপক মানবতার বার্তা ছাড়েননি। তিনি ঘৃণা ছড়িয়ে কোনো কিছু অর্জন সম্ভব নয় বলে সবাইকে বোঝাপড়া, সমঝোতা ও সহিষ্ণুতার পথ বেছে নেওয়ার আহ্বান জানান। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘মোহাম্মদ দীপক’ নামটি ট্রেন্ডিং হয় এবং তাকে অনেকেই ‘নায়ক’ হিসেবে সমাদর করছেন।

রাজনৈতিক ও সরকারি স্তর থেকেও সমর্থন এসেছে। সিপিআই(এম)-এর সাংসদ জন ব্রিটাস তাঁর জিমে সদস্যপদ গ্রহণ করেন, আর কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী তাঁকে ‘ভারতের নায়ক’ বলে প্রশংসা করেছেন। উত্তরাখণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী পুষ্কর সিং ধামি বিরোধীদের তুষ্টিকরণ রাজনীতি চালানোর অভিযোগ করেন এবং মন্তব্য করেন, “দলটি এমন লোকদেরও পছন্দ করে, যারা তাদের পবিত্র হিন্দু নামের আগে ‘মোহাম্মদ’ বসায়।”

এই ঘটনা ধর্মনিরপেক্ষতার শক্তিশালী উদাহরণ হিসেবে দেখা হচ্ছে—একজন সাধারণ নাগরিকের সাহস ও মানবিকতার প্রতিফলন, যা সমঝোতা, সহনশীলতা ও জাতীয় ঐক্যের বার্তা বহন করছে।

সংশ্লিষ্ট খবর

Back to top button