
বগুড়া–৪ আসনে জামায়াত প্রার্থীর সমর্থকদের হামলায় নন্দীগ্রামের থালতা-মাঝগ্রাম ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মাসুদ রানা (মজিদ) গুরুতর আহত হয়েছেন। তার এক চোখের দৃষ্টি হারিয়েছে এবং বর্তমানে তিনি ঢাকার জাতীয় চক্ষুবিজ্ঞান ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
মাসুদ রানার এক চোখের দৃষ্টি হারানোর খবর শুনে তার মা রাবেয়া বেওয়া (৬৫) হঠাৎ অসুস্থ হয়ে মারা গেছেন। মঙ্গলবার দুপুর আড়াইটার দিকে নন্দীগ্রামের পারশুন গ্রামে এই ঘটনা ঘটে। মাসুদ রানার ছেলে সিয়াম আকন্দ জানিয়েছেন, দাদির হার্ট অ্যাটাকে তিনি মারা যান।
হামলার ঘটনায় জানা গেছে, সোমবার রাতে পারশুন গ্রামে জামায়াত প্রার্থী মোস্তফা ফয়সালের পক্ষে ভোট কেনার অভিযোগে স্বেচ্ছাসেবক লীগের নেতা বেলাল হোসেন ও জামায়াতের কর্মী ফারুক হোসেনকে আটক করা হয়। এসময় অর্ধশতাধিক মোটরসাইকেলধারী লাঠি-সোঁটা হাতে জামায়াত সমর্থকরা হামলা চালিয়ে মাসুদ রানার বাড়ি ভাঙচুর করে এবং তাকে গুরুতর জখম করে।
মাসুদ প্রাথমিকভাবে শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চোখের জটিল অবস্থার কারণে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকায় স্থানান্তর করা হয়েছে। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, তার এক চোখের দৃষ্টি ফেরানো যাবে না।
ঘটনার পর বগুড়া প্রেসক্লাবে পৃথক সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি ও জামায়াত নেতারা পাল্টাপাল্টি বিবরণ দিয়েছেন। বিএনপি অভিযোগ করেছেন, জামায়াত সমর্থকরা মাসুদ রানা ও তার পরিবারের উপর হামলা চালিয়েছে। অপরদিকে জামায়াতের পক্ষ দাবি করেছে, স্বেচ্ছাসেবক লীগের নেতা ও কর্মীদের মারধরের ঘটনায় মাসুদ রানা নেতৃত্বে হামলা চালানো হয়েছে।
জেলা পুলিশ সুপার মো. শাহাদত হোসেন জানিয়েছেন, পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই হামলা ও ভাঙচুর হয়ে গেছে। পরে আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।



