
ময়মনসিংহের ভালুকা সরকারি কলেজ কেন্দ্রে সকাল ৭:৩০টার দিকে ভোটারদের উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে। দীর্ঘদিন পর ভোট দেওয়ার সুযোগ পাওয়ায় ষাটোর্ধা হাজেরা বেগম ভোট কেন্দ্রে এসে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, “১৭ বছর ভোট দিতে পারিনি। এবার সুযোগ এসেছে, তাই দেরি করিনি। একসঙ্গে জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে অংশ নিতে পারায় ভালো লাগছে।”
সকাল থেকেই কয়েকজন নারী ভোটার লাইনে দাঁড়িয়ে ছিলেন। তারা জানিয়েছেন, দীর্ঘ সময় পর ভোট দিতে যাচ্ছেন বলে আগের রাতে ঠিকমতো ঘুমাতে পারেননি। ভোট দিয়ে বের হওয়া তহুরা খাতুন জানান, তিনি পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিয়েছেন এবং গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দিয়েছেন। নতুন ভোটার তরিকুল ইসলামও প্রথমবার ভোট দিয়েছেন। তিনি ভোট দেওয়ার আনন্দকে ইদের আনন্দের সঙ্গে তুলনা করেছেন এবং বলেছেন, দুইটি ভোট দেওয়া সহজেই হয়েছে।
পুরুষ ভোটাররাও সকালে উৎসাহের সঙ্গে ভোট কেন্দ্রে উপস্থিত হয়েছেন। ঝামেলা এড়াতে সকাল থেকেই ভোট দিতে আসা সাইফুল ইসলাম বলেন, “পরিবেশ ভালো, আমরা চাই শান্তিপূর্ণভাবে ভোট হোক।”
কেন্দ্রের প্রিজাইডিং অফিসার আশরাফুল আলম জানিয়েছেন, কেন্দ্রের মোট ভোটার সংখ্যা তিন হাজারের বেশি। সকাল তুলনামূলক শান্ত হলেও বেলা বাড়লে উপস্থিতি বাড়ার আশা করছেন।
দুপুরে জেলার কিছু কেন্দ্র ঘুরে দেখা গেছে, ভোটার উপস্থিতি তুলনামূলক কম। ভোট নির্বিঘ্ন রাখতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তৎপর রয়েছে। এর আগে একটি অভিযোগ পাওয়ার পর বিজিবি ও অতিরিক্ত পুলিশ দ্রুত কেন্দ্রে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনেছে। কেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত সদস্যরা জানিয়েছেন, বিশৃঙ্খলার চেষ্টা হলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ময়মনসিংহের ১১টি আসনে মোট ১,৩৬৫টি ভোটকেন্দ্রে ভোটগ্রহণ হচ্ছে। এর মধ্যে ৫৮৩টি কেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। মোট ভোটার ৪৭ লাখ ৬৪ হাজার ৯৯, যার মধ্যে পুরুষ ২৪ লাখ ৬ হাজার ৮৯২, নারী ২৩ লাখ ৫৭ হাজার ১৬৬ এবং হিজড়া ভোটার ৪১। নিরাপত্তা বজায় রাখতে ৩,২১৭ পুলিশ সদস্য, বিভিন্ন উপজেলায় সেনাবাহিনী, সীমান্ত এলাকায় বিজিবির প্লাটুন, আনসার-গ্রাম পুলিশ, র্যাবের ২১টি টিম এবং ৭৮ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোতায়েন রয়েছেন।
সার্বিকভাবে দেখা গেছে, সকাল থেকেই ভোটাররা উৎসাহিত, ভোটের পরিবেশ শান্তিপূর্ণ এবং প্রশাসন সবরকম ঝুঁকি মোকাবিলায় তৎপর।



