দ্রব্যমূল্যবাংলাদেশ

রমজানের আগে ঢাকার বাজারে বেড়েছে নিত্যপণ্যের দাম

পবিত্র রমজান মাস সামনে রেখে রাজধানীর পাইকারি বাজারে নিত্যপণ্যের দামে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। পুরান ঢাকার প্রধান পাইকারি কেন্দ্র চকবাজার ও মৌলভীবাজার ঘুরে দেখা গেছে, ডাল, ভোজ্যতেল, খেজুর ও মসলাসহ রমজান-নির্ভর পণ্যের চাহিদা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে দামও বেড়েছে।

ডাল, পেঁয়াজ ও মসলার বাজার

খেসারি ডালের কেজি ৮৫–৯০ টাকা থেকে বেড়ে ১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। পেঁয়াজ ৫০ টাকা থেকে বেড়ে ৬০ টাকা এবং দেশি রসুন ৯০–১০০ টাকা থেকে বেড়ে প্রায় ১২০ টাকায় পৌঁছেছে। আমদানি করা রসুন বিক্রি হচ্ছে ১৬০ টাকা পর্যন্ত।

আদা ১৩০–১৬০ টাকা, চিনি ১০০ টাকা, ছোলার বেসন ৮০ টাকা এবং শুকনা মরিচ প্রায় ৩৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

ভোজ্যতেলের দাম

পাইকারি পর্যায়ে সয়াবিন তেল লিটারপ্রতি ১৮৫–১৯৫ টাকা এবং পাম তেল ১৫৫–১৬৫ টাকা দরে লেনদেন হচ্ছে। ব্যবসায়ীদের মতে, সরবরাহ কিছুটা কম থাকায় বাজারে চাপ তৈরি হয়েছে।

মায়ের দোয়া স্টোরের বিক্রেতা শাজাহান মিয়া বলেন, নির্ধারিত দামের বাইরে তেল বাড়ার কথা নয়, তবে সরবরাহ কম থাকায় বিক্রিতে সমস্যা হচ্ছে।

খেজুরের বাজার

রমজানকে কেন্দ্র করে খেজুরের দামেও বড় ধরনের ভিন্নতা দেখা যাচ্ছে। জাহিদি জাতের পাঁচ কেজির প্যাকেট ১,০০০–১,২০০ টাকায় এবং ইরানি মরিয়ম জাতের পাঁচ কেজির প্যাকেট ৫,০০০–৬,২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। খুচরা বিক্রেতাদের দাবি, আমদানি ব্যয় বেশি হওয়ায় বেশি দামে কিনতে হয়েছে।

চাল ও অন্যান্য পণ্য

চালের বাজার তুলনামূলক স্থিতিশীল থাকলেও বছরে প্রায় ৮.৫ শতাংশ দাম বেড়েছে। মোটা চাল কেজিতে ৫৪–৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ভোজ্যতেলের দাম গত এক বছরে ১২ শতাংশের বেশি বেড়েছে বলে ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন।

তবে কিছু পণ্যে স্বস্তির আভাসও রয়েছে। তিন মাস আগের তুলনায় মসুর ডাল ১০০–১১০ টাকা থেকে কমে ৮০–৮৫ টাকায়, ছোলা ১১০ টাকা থেকে ৮০–৯০ টাকায় এবং চিনি ১০৫ টাকা থেকে ৯৫ টাকায় নেমেছে বলে খুচরা বিক্রেতারা জানিয়েছেন।

মসলার দাম

ভালো মানের দারুচিনি ৫০০–৭০০ টাকা, লবঙ্গ ১,৪০০–১,৮০০ টাকা এবং এলাচ ৪,৫০০–৫,৫০০ টাকা বা তার বেশি দরে বিক্রি হচ্ছে।

ক্রেতা-বিক্রেতার প্রতিক্রিয়া

মৌলভীবাজারের ক্রেতা সাদিক হাসান বলেন, কিছু পণ্যের দাম আগেই বেশি ছিল। সরকারের উচিত চাল ও তেলের দাম কমানোর দিকে নজর দেওয়া। তবে রমজানের মাত্র কয়েকদিন আগে বাজার পরিস্থিতি তুলনামূলকভাবে নিয়ন্ত্রিত বলেও মত দেন তিনি।

ব্যবসায়ীদের দাবি, আমদানি প্রায় ৪০ শতাংশ বাড়ায় রমজানজুড়ে কিছু পণ্যের দাম স্থিতিশীল বা কমার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে খুচরা বাজারে এখনো চাপ পুরোপুরি কমেনি বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

সংশ্লিষ্ট খবর

Back to top button