ধর্ম

সেহরি খাওয়ার ফজিলত

রমজানের প্রতিটি মুহূর্তই ইবাদতের আলোয় আলোকিত, তবে রাতের শেষ প্রহর—সুবহে সাদেকের পূর্বক্ষণ—বিশেষ রহমত ও বরকতের সময়। এ সময়ের গুরুত্বপূর্ণ আমল হলো সেহরি। এটি শুধু রোজা রাখার শারীরিক প্রস্তুতি নয়; বরং সুন্নাহ পালন, বরকত অর্জন এবং মুসলিম উম্মাহর স্বাতন্ত্র্য প্রকাশের এক অনন্য নিদর্শন।

সেহরি: বরকতের সূচনা

সেহরি খাওয়া সুন্নত এবং এতে রয়েছে বিশেষ কল্যাণ। ইয়াহুদি ও খ্রিস্টানরাও রোজা রাখত, তবে তারা ভোররাতে সেহরি করত না। তাই মুহাম্মদ (সা.) সেহরি খাওয়ার প্রতি বিশেষভাবে উৎসাহ দিয়েছেন। তিনি বলেছেন:

“তোমরা সেহরি খাও, কারণ সেহরিতে বরকত রয়েছে।”
— (মুসনাদে আহমদ, মুসান্নাফে ইবনে আবি শায়বা, ইবনে হিব্বান)

এ হাদিস থেকে বোঝা যায়, সেহরির মূল উদ্দেশ্য অতিভোজন নয়; বরং বরকত লাভ ও সুন্নাহ অনুসরণ। এমনকি এক ঢোক পানি পান করলেও সেহরির সুন্নাহ আদায় হয়ে যায়।

রহমত ও ফেরেশতাদের দোয়া

আরেক বর্ণনায় এসেছে, যারা সেহরি করে আল্লাহ তাআলা তাদের ওপর রহমত বর্ষণ করেন এবং ফেরেশতারা তাদের জন্য দোয়া করেন। অর্থাৎ সেহরি এমন এক ইবাদত, যার সঙ্গে সরাসরি জড়িয়ে আছে আল্লাহর রহমত ও ফেরেশতাদের প্রার্থনা।

ইফতার দ্রুত করা যেমন সওয়াবের কাজ, তেমনি সেহরি দেরিতে—সুবহে সাদেকের কাছাকাছি সময়ে—খাওয়াও উত্তম। তবে অবশ্যই ফজরের সময় শুরু হয়ে যাওয়ার আগে সেহরি শেষ করতে হবে। হাদিসে উল্লেখ আছে, নবীদের তাড়াতাড়ি ইফতার ও দেরিতে সেহরির নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল, এবং সাহাবায়ে কেরাম সে অনুযায়ী আমল করতেন।

উম্মাহর স্বাতন্ত্র্য

নবিজি (সা.) আরও বলেছেন:

“আমাদের রোজা ও আহলে কিতাবদের রোজার মধ্যে পার্থক্য হলো সেহরি খাওয়া।”
— (সহিহ মুসলিম, সুনানে নাসাঈ)

এই হাদিসে স্পষ্ট হয়েছে, সেহরি মুসলিম উম্মাহর স্বকীয়তার একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতীক। এটি কেবল একটি খাবার নয়, বরং পরিচয় ও আনুগত্যের প্রকাশ।

সেহরি শুধুই ভোরের আহার নয়; এটি বরকতের দ্বার, রহমতের উপলক্ষ এবং সুন্নাহর সৌন্দর্য। অল্প খাবার কিংবা সামান্য পানীয় দিয়েও এই আমল সম্পন্ন করা যায়। সেহরি আমাদের শেখায় পরিমিতি, সময়ানুবর্তিতা এবং আল্লাহর নির্দেশ মানার সৌন্দর্য।

আসুন, আমরা সেহরিকে আনুষ্ঠানিকতার গণ্ডি ছাড়িয়ে বরকত ও রহমত অর্জনের এক মূল্যবান ইবাদত হিসেবে গ্রহণ করি। আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে সুন্নাহ অনুযায়ী সেহরি পালনের তাওফিক দান করুন।

সংশ্লিষ্ট খবর

Back to top button