বাতাস থেকে মিলবে বিশুদ্ধ পানি, নোবেলজয়ী মুসলিম বিজ্ঞানীর যুগান্তকারী আবিষ্কার

নোবেলজয়ী রসায়নবিদ অধ্যাপক ওমর ইয়াগি এমন এক যুগান্তকারী যন্ত্র আবিষ্কার করেছেন, যা ঘূর্ণিঝড় বা খরার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগের পরও বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ করতে সক্ষম। এই যন্ত্রটি বিশেষভাবে এমন পরিবেশে কাজ করতে পারে, যেখানে বিদ্যুৎ নেই বা মূল পানির সরবরাহ লাইন বন্ধ। ‘রেটিকুলার কেমিস্ট্রি’ প্রযুক্তি ব্যবহার করে আণবিকভাবে তৈরি উপাদান দিয়ে তৈরি এই যন্ত্র বাতাস থেকে আর্দ্রতা টেনে নিয়ে পানি উৎপাদন করে। এটি ২০ ফুট লম্বা একটি শিপিং কনটেইনারের সমান এবং অত্যন্ত কম তাপশক্তিতেও কার্যকর। এক দিনে এটি এক হাজার লিটার পর্যন্ত পানি উৎপাদন করতে পারে।
অধ্যাপক ইয়াগি বলেন, বিশেষ করে ছোট দ্বীপরাষ্ট্র এবং ঘূর্ণিঝড়-প্রবণ অঞ্চলের মানুষের জীবন রক্ষা করতে এই প্রযুক্তি বড় ভূমিকা রাখতে পারে। ক্যারিবীয় দ্বীপপুঞ্জের ঘূর্ণিঝড় বেরিল এবং মেলিসার পরে হাজার হাজার মানুষ পানির অভাবে ভোগান্তিতে পড়েছিল। এমন পরিস্থিতিতে এই যন্ত্র স্থানীয়ভাবে পানি সরবরাহের ক্ষেত্রে কার্যকর সমাধান হতে পারে। এছাড়া এটি পরিবেশবান্ধবও, কারণ সমুদ্রের লবণমুক্তকরণ পদ্ধতির মতো পরিবেশকে ক্ষতি করে না।
অধ্যাপক ইয়াগি তার শৈশবের অভিজ্ঞতা থেকে এই আবিষ্কারের প্রেরণা পেয়েছেন। জর্ডানের একটি উদ্বাস্তু শিবিরে তিনি বড় হয়েছেন, যেখানে কলের পানি বা বিদ্যুৎ ছিল না। ছোটবেলায় পানি আসার সময় মানুষ যেন হাতের কাছে থাকা সব পাত্র ভরে নিত, সেই স্মৃতি তাঁর মনে রেখেই তিনি এই প্রযুক্তি তৈরি করেছেন।
তিনি বিশ্বনেতাদের আহ্বান জানিয়েছেন, গবেষণার স্বাধীনতা রক্ষা করতে এবং বৈশ্বিক সহযোগিতা বাড়াতে। তাঁর লক্ষ্য শুধুমাত্র কার্বন নির্গমন নিয়ন্ত্রণ নয়, বরং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য নিরাপদ পানির ব্যবস্থা নিশ্চিত করা এবং একটি বাসযোগ্য পৃথিবী রেখে দেওয়া। এই আবিষ্কার বৈশ্বিক পানি সংকটের যুগে সুপেয় পানি নিশ্চিত করার এক নতুন আশার দিগন্ত খুলে দিয়েছে।



