যু/দ্ধ আরও র/ক্তা/ক্ত হয়ে উঠছে, নি/হ/ত ৬০০, প্রা/ণ/হা/নি কোন দেশে কত

ইরানকে কেন্দ্র করে চলমান ইসরায়েল–যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ সামরিক অভিযানে উপসাগরীয় অঞ্চলসহ গোটা মধ্যপ্রাচ্যে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। সংঘাতের তৃতীয় দিনে এসে নিহতের সংখ্যা প্রায় ৬০০ ছুঁইছুঁই বলে জানিয়েছে Iranian Red Crescent Society। খবর দিয়েছে TRT World।
রেড ক্রিসেন্টের তথ্যমতে, নিহতদের অধিকাংশই ইরানের অভ্যন্তরে বিমান হামলা ও ক্ষেপণাস্ত্র আঘাতে প্রাণ হারিয়েছেন। রাজধানী তেহরানসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় হামলার ফলে বেসামরিক হতাহতের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ইরান সরকার এসব হামলাকে সরাসরি ইসরায়েল–যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ অভিযানের ফল বলে দাবি করেছে।
কুয়েতে যুদ্ধবিমান বিধ্বস্তের খবর
সোমবার (২ মার্চ) সকালে কুয়েতে একাধিক মার্কিন যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। কুয়েতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, কয়েকটি মার্কিন যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হয়েছে, তবে সব পাইলট ও ক্রু সদস্য জীবিত আছেন এবং তাদের হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। তাদের অবস্থা স্থিতিশীল বলে জানানো হয়েছে।
অন্যদিকে, ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের দাবি— একটি মার্কিন F-15 Eagle যুদ্ধবিমান ইরানের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার গুলিতে ভূপাতিত হয়েছে। যদিও এ বিষয়ে মার্কিন পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
সংঘাতের বিস্তার
সংঘাতের প্রভাব ইরানের বাইরেও ছড়িয়ে পড়েছে। লেবাননে ইসরায়েলি হামলায় অন্তত ৩০ জন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। ইসরায়েলে ইরানের পাল্টা হামলায় ৮–৯ জন নিহত হয়েছেন বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকেও কয়েকজন সেনা নিহত হওয়ার তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে।
কুয়েত, ইরাক ও সংযুক্ত আরব আমিরাতেও সীমিত সংখ্যক হতাহতের খবর পাওয়া গেছে, যদিও এসব দেশের ক্ষেত্রে অনেক তথ্য এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত হয়নি।
যাচাইবিহীন ভিডিও ও উদ্বেগ
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া কয়েকটি ভিডিওতে একটি যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হওয়ার দৃশ্য দেখা গেছে বলে দাবি করা হচ্ছে। কিছু ফুটেজে প্যারাশুটে নামা এক পাইলটকে স্থানীয়রা সরিয়ে নিচ্ছেন বলেও দেখা যায়। তবে এসব ভিডিওর সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক মহলে সংঘাতের বিস্তার নিয়ে গভীর উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, পরিস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী হলে মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা ও বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় বড় ধরনের অস্থিরতা দেখা দিতে পারে। ইতোমধ্যে উপসাগরীয় অঞ্চলে সামরিক সতর্কতা জোরদার করা হয়েছে।
সব মিলিয়ে, প্রায় ৬০০ প্রাণহানির এই সংঘাত এখন শুধু সামরিক শক্তির লড়াই নয়—বরং ক্রমবর্ধমান মানবিক সংকটের দিকেও দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে।



