ভারী যানবাহনের কম্পনে কাঁপছে ৫০০ বছরের ঐতিহাসিক ছোট সোনামসজিদ

শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে ইতিহাসের নীরব সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে চাঁপাইনবাবগঞ্জের ঐতিহাসিক ছোট সোনামসজিদ। সুলতানি আমলে নির্মিত এই অনন্য স্থাপনাটি শুধু স্থাপত্যশৈলীর জন্যই নয়, দেশের প্রাচীন ঐতিহ্যের গুরুত্বপূর্ণ নিদর্শন হিসেবেও সুপরিচিত। তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে নানা প্রতিকূলতার মুখে পড়েছে প্রায় সাড়ে পাঁচশ বছরের পুরোনো এই মসজিদ। বিশেষ করে পাশের ব্যস্ত সড়ক দিয়ে ভারী যানবাহনের অবিরাম চলাচলে সৃষ্ট কম্পন এখন এর স্থায়িত্বের জন্য বড় হুমকি হয়ে উঠেছে।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ–সোনামসজিদ স্থলবন্দর সড়কের ঠিক পাশেই অবস্থিত এই ঐতিহাসিক স্থাপনাটি। প্রতিদিন এ সড়ক দিয়ে ২০ থেকে ৭০ টন পণ্যবোঝাই প্রায় আট শতাধিক ভারী যানবাহন চলাচল করে। এসব যানবাহনের তীব্র কম্পনে আশপাশের এলাকা কেঁপে ওঠে, যার প্রভাব পড়ছে মসজিদের দেয়াল, মিনার ও পাথরের গাঁথুনিতে। ফলে সুলতান আলাউদ্দিন হোসেন শাহের আমলে নির্মিত এই ঐতিহ্যবাহী স্থাপনাটিতে ইতোমধ্যে অসংখ্য ফাটল দেখা দিয়েছে।
স্থানীয়দের আশঙ্কা, দ্রুত সংরক্ষণ ব্যবস্থা না নিলে ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ এই নিদর্শন একসময় ধ্বংসের মুখে পড়তে পারে। প্রতিদিন দেশ-বিদেশ থেকে শতাধিক দর্শনার্থী মসজিদটি দেখতে এলেও দেয়ালে ফাটল দেখে উদ্বেগ প্রকাশ করছেন তারা।
আদিনা ফজলুল হক সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ ও গবেষক মোজাহারুল ইসলাম তরু বলেন, গঠনশৈলী ও প্রাচীনত্বের দিক থেকে ছোট সোনামসজিদ বিশ্বে বিরল একটি স্থাপনা। তাই এর সংরক্ষণে দ্রুত ও কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া জরুরি।
গৌড় গ্রুপ অব মনুমেন্টসের উপ-সহকারী প্রকৌশলী শাহীনুজ্জামান খানও সতর্ক করে বলেন, সময়মতো ব্যবস্থা না নিলে ভবিষ্যতে মসজিদের কাঠামো আরও ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
এ বিষয়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সড়ক ও জনপদ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী নাহিনুর রহমান জানান, নতুন বাইপাস সড়ক নির্মাণের পরিবর্তে বিদ্যমান সড়কেই কম্পন নিরোধক প্রযুক্তি ব্যবহার করে মহাসড়ক উন্নয়নের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
দেশ-বিদেশের দর্শনার্থীদের কাছে আকর্ষণের কেন্দ্র এই ঐতিহাসিক ছোট সোনামসজিদ। শতাব্দীর সাক্ষী এই অমূল্য ঐতিহ্য রক্ষায় দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়াই এখন সময়ের দাবি।



