পারমাণবিক যুদ্ধের আশঙ্কা, ইরানের দিকে মার্কিন ‘ডুমসডে প্লেন’

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের চলমান উত্তেজনার মধ্যে পারমাণবিক সংঘাতের আশঙ্কা বাড়তে থাকায় যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষায়িত ‘ডুমসডে প্লেন’-এর তৎপরতা বাড়তে দেখা যাচ্ছে।
যুক্তরাজ্যের পত্রিকা ডেইলি মেইল–এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারির পর থেকে মার্কিন নৌবাহিনীর কৌশলগত কমান্ড বিমান ই–৬বি মার্কারি একাধিকবার উড্ডয়ন করেছে বলে ফ্লাইট ট্র্যাকিং তথ্য থেকে জানা গেছে।
বোয়িং ৭০৭ এয়ারফ্রেমের ওপর তৈরি এই বিশেষ বিমানগুলো মূলত পারমাণবিক যুদ্ধ পরিস্থিতিতে আকাশ থেকে সামরিক কমান্ড পরিচালনার জন্য ব্যবহৃত হয়। এতে এমন যোগাযোগ ব্যবস্থা রয়েছে যার মাধ্যমে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বা প্রতিরক্ষামন্ত্রীর নির্দেশ পারমাণবিক সাবমেরিন, স্থল ঘাঁটি এবং স্যাটেলাইটে দ্রুত পৌঁছে দেওয়া সম্ভব।
ফ্লাইট ডেটা বিশ্লেষণে দেখা যায়, ২ মার্চ যুক্তরাষ্ট্রের আকাশে দুটি ই–৬বি বিমান বিশেষ মিশনে উড়ে। একটি মেক্সিকো উপসাগর উপকূল থেকে মেরিল্যান্ডের নেভাল এয়ার স্টেশন পাটুক্সেন্ট রিভার ঘাঁটিতে অবতরণ করে। অন্যটি নেব্রাস্কার অফুট এয়ার ফোর্স বেস থেকে উড্ডয়ন করে আবার সেখানেই ফিরে আসে।
এছাড়া আরও কয়েকটি বিমান আটলান্টিক মহাসাগর পাড়ি দিয়ে পারস্য উপসাগরের দিকে অগ্রসর হচ্ছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এ বিষয়ে মার্কিন প্রতিরক্ষা সদর দপ্তর পেন্টাগন কোনো মন্তব্য করেনি এবং বিষয়টিকে ‘অপারেশনাল সিকিউরিটি’ বলে উল্লেখ করেছে।
এই বিমানগুলো ‘ট্যাকামো’ (টেক চার্জ অ্যান্ড মুভ আউট) নামের একটি বিশেষ মিশনের অংশ। এর উদ্দেশ্য হলো—যদি যুদ্ধের সময় সাধারণ যোগাযোগ ব্যবস্থা ধ্বংস হয়ে যায়, তবুও যেন পারমাণবিক কমান্ড ও নির্দেশ যথাযথ জায়গায় পৌঁছাতে পারে।
১৯৮০–এর দশকে চালু হওয়া ই–৬বি মার্কারি এখনো যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত বিমানগুলোর একটি। প্রায় ২২ জন ক্রু নিয়ে এটি একটানা প্রায় ৭ হাজার মাইল উড়তে পারে এবং আকাশে জ্বালানি নিয়ে কয়েক দিন পর্যন্ত উড্ডয়ন অবস্থায় থাকতে সক্ষম।
এটির আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ মিশন হলো লুকিং গ্লাস, যার মাধ্যমে আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র (আইসিবিএম) ব্যবস্থার কমান্ড ও নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করা হয়। বর্তমান ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার মধ্যে এসব বিমানের সক্রিয়তা যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর উচ্চ সতর্কাবস্থার ইঙ্গিত দিচ্ছে।
সূত্র: এক্সপ্রেস ট্রিবিউন।



