
আজ পবিত্র মাহে রমজান-এর শেষ শুক্রবার বা শেষ জুমা। মুসলিম বিশ্বে এই দিনকে জুমাতুল বিদা নামে পরিচিত। রমজান ও জুমার সম্মিলন এই দিনটিকে মুমিন মুসলমানদের কাছে বিশেষভাবে মহিমাময় করেছে।
জুমাতুল বিদার গুরুত্ব
জুমাতুল বিদা মূলত দুটি কারণে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ:
১. রমজানের বিশেষ সওয়াব: রমজান মাসে প্রতিটি নেক আমলের সওয়াব ১০ থেকে ৭০০ গুণ পর্যন্ত বৃদ্ধি করা হয়।
২. জুমার দিনের শ্রেষ্ঠত্ব: হাদিস অনুযায়ী, জুমার দিন হলো সপ্তাহের শ্রেষ্ঠ দিন। এই দিনেই হজরত আদম (আ.)-কে সৃষ্টি করা হয়েছিল এবং এই দিনেই দোয়া কবুল হওয়ার একটি বিশেষ মুহূর্ত রয়েছে।
রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, “দিনের মধ্যে সর্বোত্তম দিন হলো জুমার দিন।” (জামে তিরমিজি)
জুমার দিনের ৯টি সুন্নত আমল
জুমাতুল বিদা বা যেকোনো জুমার দিনে বিশেষ সওয়াব হাসিলের জন্য নিচের সুন্নতগুলো পালন করা উচিত:
১. সাবান দিয়ে ভালোভাবে গোসল করা।
২. নতুন বা উত্তম পোশাক পরা।
৩. আতর বা সুগন্ধি ব্যবহার করা।
৪. পায়ে হেঁটে মসজিদে যাওয়া।
৫. আগে আগে মসজিদে প্রবেশ করা।
৬. ইমামের কাছাকাছি জায়গায় বসা।
৭. মনোযোগ সহকারে খুতবা শোনা।
৮. বেশি বেশি দরুদ শরিফ পাঠ করা।
৯. কাউকে কষ্ট না দেওয়া এবং অনর্থক কাজ থেকে বিরত থাকা।
বিশ্বব্যাপী অনেক মুসলমান রমজানের শেষ শুক্রবারকে আল-কুদস দিবস হিসেবে পালন করেন। এর মাধ্যমে ফিলিস্তিনের পবিত্র মসজিদ আল-আকসা মসজিদ মুক্তির দাবিতে জনসচেতনতা বৃদ্ধি করা হয়।
জুমাতুল বিদা মূলত রমজানকে বিদায় জানানোর এক বিষাদময় মুহূর্ত। এটি আত্মশুদ্ধির একটি অনন্য সুযোগ। এই দিনে বেশি বেশি তওবা ও ইস্তেগফার করা এবং সারা বিশ্বের মুসলিম উম্মাহর জন্য দোয়া করা উত্তম।



