Uncategorized

নিম্নমানের সার আমদানি; কৃষি মন্ত্রণালয়ের একাংশের বিরুদ্ধে গুরুতর অনিয়মের অভিযোগ

বেসরকারি খাতে সার আমদানির বিরোধিতা করে নিম্নমানের ও ভেজাল সার আমদানির সুযোগ করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে কৃষি মন্ত্রণালয়ের একটি প্রভাবশালী মহলের বিরুদ্ধে। অভিযোগে বলা হয়েছে, কৃষিমন্ত্রীকে বিভ্রান্ত করে চীনের একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে জিটুজি (সরকার-টু-সরকার) চুক্তির নামে সার আমদানির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

 

অভিযোগ অনুযায়ী, কৃষি মন্ত্রণালয়ের সার ব্যবস্থাপনা ও উপকরণ উইংয়ের যুগ্ম সচিব ও মন্ত্রীর একান্ত সচিব (সংযুক্ত) মো. খোরশেদ আলমের বিরুদ্ধে এই অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। বলা হচ্ছে, ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরের জন্য প্রায় ৪ লাখ ৪০ হাজার মেট্রিক টন নন-ইউরিয়া (ডিএপি) সার আমদানির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে চীনের বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ‘বানিয়া ইন্টারন্যাশনাল ট্রেডিং লিমিটেড’-এর কাছে।

 

জিটুজি পদ্ধতিতে সাধারণত সংশ্লিষ্ট দেশের সরকারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি হওয়ার কথা থাকলেও এখানে একটি বেসরকারি ট্রেডিং কোম্পানির সঙ্গে চুক্তি করা হয়েছে, যা বিদ্যমান নীতিমালার পরিপন্থী।

 

এছাড়া অভিযোগ রয়েছে, আমদানিকৃত ডাই-অ্যামোনিয়াম ফসফেট (ডিএপি) সারের নির্ধারিত মান ৬৪ শতাংশ (নাইট্রোজেন ও ফসফেট) হওয়ার কথা থাকলেও, নিম্নমানের ৫৭ শতাংশ উপাদানসমৃদ্ধ সার মিশিয়ে সরবরাহ করা হয়েছে। এতে প্রতি মেট্রিক টনে প্রায় ১০০ মার্কিন ডলার পর্যন্ত আর্থিক অনিয়মের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

 

সংশ্লিষ্ট সূত্র আরও জানায়, জাহাজীকরণের সময় প্রতি চালানে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ নিম্নমানের সার মিশিয়ে সরবরাহ করা হয়। এমনকি জাহাজের নিচে নিম্নমানের সার এবং উপরে উন্নতমানের সার লোড করার অভিযোগও রয়েছে।

 

এদিকে, গুণগত মান যাচাইয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে ‘কন্টিনেন্টাল ইন্সপেকশন কোং (বিডি) লিমিটেড’ নামের একটি স্বল্পপরিচিত প্রতিষ্ঠানকে, যেখানে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সংস্থা যেমন এসজিএস বা ইন্সপেক্টরেট ব্যবহারের কথা থাকলেও তা মানা হয়নি। এ প্রক্রিয়ায় এলসি’র মাধ্যমে অর্থ পাচারের অভিযোগও উঠেছে।

 

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ ধরনের অনিয়ম অব্যাহত থাকলে কৃষক পর্যায়ে সারের কার্যকারিতা কমে যাবে এবং কৃষি উৎপাদনে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

ওএফ

সংশ্লিষ্ট খবর

Back to top button