যুক্তরাষ্ট্রআন্তর্জাতিকএশিয়ামধ্যপ্রাচ্য

‘ইরানের নেতাদের বাঁচিয়ে রাখা হয়েছে শুধু আলোচনার জন্য’

যুক্তরাষ্ট্র–ইরান আলোচনার আগে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে, যেখানে কঠোর বার্তা দিয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প।

শুক্রবার তিনি ট্রুথ সোশ্যাল প্ল্যাটফর্মে ইরানকে উদ্দেশ করে বলেন, দেশটির হাতে কার্যত কোনো শক্তিশালী অবস্থান নেই এবং তারা আন্তর্জাতিক জলপথ নিয়ন্ত্রণ করে বিশ্বকে সাময়িকভাবে চাপের মধ্যে রাখছে। তার মতে, ইরান শুধু আলোচনার স্বার্থেই এখন পর্যন্ত টিকে আছে।

এর আগে নিউইয়র্ক পোস্টকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, পাকিস্তানে অনুষ্ঠিতব্য আলোচনায় অগ্রগতি না হলে মার্কিন যুদ্ধজাহাজ আবারও সামরিক অভিযান শুরু করতে প্রস্তুত। তিনি আরও জানান, খুব দ্রুতই পরিস্থিতির ফলাফল বোঝা যাবে।

আলোচনায় ইরানের পক্ষ থেকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি এবং পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি দলে থাকছেন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স, বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং উপদেষ্টা জারেড কুশনার।

আলোচনায় যেসব বিষয় গুরুত্ব পাচ্ছে তার মধ্যে রয়েছে ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম হস্তান্তর, হরমুজ প্রণালি আন্তর্জাতিক নৌচলাচলের জন্য উন্মুক্ত করা, আঞ্চলিক সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর প্রতি সমর্থন বন্ধ এবং ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি সীমিত করা। এর বিপরীতে ইরান দাবি করছে, যুক্তরাষ্ট্রকে অবশ্যই অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা তুলে নিতে হবে।

তবে ইরান এখনই আলোচনায় বসতে প্রস্তুত নয় বলে জানানো হয়েছে। গালিবাফ জানিয়েছেন, লেবাননে যুদ্ধবিরতি নিশ্চিত করা এবং ইরানের আটকে থাকা সম্পদ মুক্ত না করা পর্যন্ত আলোচনা শুরু সম্ভব নয়।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার কারণে ইরান তাদের তেল-গ্যাস রপ্তানির বিপুল অর্থ বিদেশি ব্যাংক থেকে তুলতে পারছে না, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে।

সব মিলিয়ে একদিকে কূটনৈতিক চাপ, অন্যদিকে সামরিক হুঁশিয়ারি—এই দুইয়ের মধ্যে আলোচনার ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। তবে হোয়াইট হাউস বলছে, তারা এখনও একটি শান্তিপূর্ণ সমাধানের ব্যাপারে আশাবাদী।

সংশ্লিষ্ট খবর

Back to top button