কাপ্তাই হ্রদে ভাসল ফুল, পাহাড়ে উৎসবের আমেজ

রাঙামাটির কাপ্তাই হ্রদ আজ ভোরের নীরব আলো ফোটার আগেই রঙিন ফুলে সেজে উঠেছে এক অপূর্ব দৃশ্যে। শান্ত নীল জলের বুকজুড়ে ভেসে বেড়াচ্ছে জবা, নীলকণ্ঠ, গাঁদা, গোলাপসহ নানা ধরনের বুনো ফুল, যেন পুরো হ্রদই পরিণত হয়েছে এক বিশাল ফুলের বিছানায়।
চাকমা, মারমা, ত্রিপুরা ও তঞ্চঙ্গ্যা জনগোষ্ঠীর তিন দিনব্যাপী প্রধান সামাজিক উৎসব বিজু-সাংগ্রাই-বৈসু’র প্রথম দিন আজ পালিত হচ্ছে ‘ফুল বিজু’। এই দিনে ঐতিহ্য অনুযায়ী কাপ্তাই হ্রদ ও আশপাশের নদী-ছড়ায় ফুল ভাসানোর মধ্য দিয়ে পুরোনো বছরের দুঃখ-গ্লানি বিদায় দিয়ে নতুন বছরের শুভ কামনা করা হয়।
আজ সকালে রাঙামাটি শহরের ডিসি বাংলো এলাকা ও কেরানি পাহাড়সংলগ্ন হ্রদের পাড়ে দেখা যায় মানুষের উপচে পড়া ভিড়। তরুণ-তরুণীরা ঐতিহ্যবাহী পোশাকে সজ্জিত হয়ে ফুলভর্তি থালা হাতে হ্রদের ঘাটে এসে ফুল ভাসিয়ে দেন। এই মুহূর্তগুলোতে পুরো এলাকা রূপ নেয় এক মিলনমেলায়।
ফুল ভাসানো শেষে সবাই একে অপরকে নতুন বছরের শুভেচ্ছা জানান। শুধু কাপ্তাই হ্রদ নয়, আশপাশের ছড়া ও নদীতেও একইভাবে ফুল ভাসানোর উৎসব চলে।
এই আয়োজনের মধ্য দিয়ে পাহাড়ে শুরু হলো বিজু উৎসবের মূল পর্ব। আগামীকাল পালিত হবে ‘মূল বিজু’, যেখানে ঘরে ঘরে অতিথি আপ্যায়ন চলবে। এদিন রান্না করা হবে ঐতিহ্যবাহী ‘পাঁজন’, যা ১৫ থেকে ২০ বা তারও বেশি ধরনের সবজি ও ঔষধি লতাপাতার মিশ্রণে তৈরি একটি বিশেষ নিরামিষ খাবার।



