কবির হোসেন প্রকৃত কৃষক, এআই ছবি ও গুজব ছড়িয়ে বিভ্রান্তি

টাঙ্গাইলে কৃষক কার্ড পাওয়া কবির হোসেনকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিতর্ক ও বিভ্রান্তির পর বিষয়টি নিয়ে প্রশাসনিক তদন্তে ভিন্ন চিত্র উঠে এসেছে। এআই-নির্ভর ছবি ও আংশিক তথ্যের ভিত্তিতে তাকে ‘অপ্রকৃত কৃষক’ হিসেবে উপস্থাপন করা হলেও সরেজমিন পরিদর্শন ও স্থানীয়দের বক্তব্যে জানা যায়, কবির হোসেন বাস্তবে একজন প্রান্তিক কৃষক।
ঘারিন্দা ইউনিয়নের উত্তর তারটিয়া গ্রামের কবির হোসেন শহীদ মারুফ স্টেডিয়ামে আয়োজিত কৃষক কার্ড বিতরণ অনুষ্ঠানে কার্ড গ্রহণ করেন এবং সেখানে কৃষক হিসেবে বক্তব্যও দেন। কিন্তু অনুষ্ঠান শেষে তার কিছু ছবি অনলাইনে ছড়িয়ে পড়ে, যেখানে তাকে বিত্তশালী হিসেবে দাবি করা হয়। এরপরই সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়।
তবে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা ও জেলা প্রশাসনের তদন্ত দল সরেজমিনে তার বাড়ি পরিদর্শন করে জানায়, কবির হোসেন টিনের ঘরে বসবাস করেন এবং নিজের সামান্য জমির পাশাপাশি অন্যের জমি বর্গা নিয়ে কৃষিকাজ করেন। স্থানীয় বাসিন্দারাও জানান, তিনি নিয়মিত কৃষিকাজ করেন এবং পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কনটেন্ট তৈরি করেন—যা নিয়ে ভুল বোঝাবুঝি তৈরি হয়েছে।
পরে প্রশাসনের পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি ও কৃষি অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা তাকে কৃষক স্মার্ট কার্ড নীতিমালা অনুযায়ী যোগ্য বলে মত দেন। জেলা প্রশাসনও কৃষি মন্ত্রণালয়ে পাঠানো প্রতিবেদনে একই তথ্য জানায়।
কবির হোসেন নিজের বিরুদ্ধে ছড়ানো গুজবকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেছেন এবং এর ফলে মানসিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার কথা জানিয়েছেন। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও কৃষি কর্মকর্তারাও তার পক্ষে অবস্থান নিয়ে বলেছেন, তিনি একজন প্রকৃত প্রান্তিক কৃষক।



