যুক্তরাষ্ট্রআন্তর্জাতিকএশিয়ামধ্যপ্রাচ্য

যুদ্ধ শেষের আশায় বাজারে স্বস্তি, বিশেষজ্ঞদের ভেংচি কাটলেন ট্রাম্প

ইসরায়েল ও ওয়াশিংটনের ইরান আক্রমণের পর বিশ্বজুড়ে তেলের বাজারে যখন চরম অস্থিরতা চলছে, তখন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজের স্বভাবসুলভ ভঙ্গিতে অর্থনৈতিক বিশেষজ্ঞদের সমালোচনা করেছেন।

লাস ভেগাসে এক জনসভায় তিনি দাবি করেন, তেলের দাম নিয়ে বিশেষজ্ঞরা যে ভয়াবহ পূর্বাভাস দিয়েছিলেন, তা বাস্তবে সত্য হয়নি। তিনি বলেন, অনেক পরামর্শক তাকে সতর্ক করেছিলেন যে ইরানে হামলার পর প্রতি ব্যারেল তেলের দাম ৩০০ ডলারে পৌঁছে যাবে এবং বৈশ্বিক অর্থনীতি ভয়াবহ সংকটে পড়বে।

ট্রাম্প আরও বলেন, এসব পূর্বাভাস তিনি গ্রহণ করেননি এবং বাস্তবে তেমন কোনো অর্থনৈতিক বিপর্যয়ও ঘটেনি। বরং তার দাবি অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের শেয়ারবাজার এখন রেকর্ড উচ্চতায় রয়েছে এবং অর্থনীতির গতি অব্যাহত আছে।

মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘ উত্তেজনার কারণে গত মার্চে তেলের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে গিয়েছিল। তবে পরবর্তীতে ইসরায়েল ও লেবাননের মধ্যে যুদ্ধবিরতির খবরে বিশ্ববাজারে কিছুটা স্থিতিশীলতা ফিরে আসে।

আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম সাম্প্রতিক সময়ে কিছুটা কমে ব্যারেল প্রতি ৯৮ ডলারের কাছাকাছি নেমে এসেছে। একইভাবে মার্কিন ডব্লিউটিআই তেলের দামও ৯০ ডলারের ঘরে অবস্থান করছে।

বিশ্লেষকদের মতে, স্বল্পমেয়াদে দাম কিছুটা স্থিতিশীল হলেও মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি এবং হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা নিয়ে অনিশ্চয়তা এখনো পুরোপুরি কাটেনি। এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে কোনো দীর্ঘস্থায়ী সংকট তৈরি হলে তা বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ও খাদ্য নিরাপত্তায় বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে।

জাতিসংঘ সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, জ্বালানি ও সার সরবরাহ ব্যাহত হলে শস্য উৎপাদন কমে যেতে পারে এবং খাদ্যের দাম ব্যাপকভাবে বেড়ে বিশ্বজুড়ে নিম্নআয়ের দেশগুলো সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

সংশ্লিষ্ট খবর

Back to top button