বাংলাদেশঅপরাধ

মাছচাষে মুরগির বিষ্ঠা-নাড়িভুঁড়ি ব্যবহার, সেই মাছ নিজেরাই খান না খামারিরা

বাংলা টিভি ডেস্ক: ময়মনসিংহ দেশের অন্যতম প্রধান মাছ উৎপাদনকারী অঞ্চল হিসেবে পরিচিত। বিশেষ করে ভালুকা ও ত্রিশালসহ বিভিন্ন উপজেলায় আধুনিক ও বাণিজ্যিক পদ্ধতিতে মাছ চাষ দ্রুত বিস্তার লাভ করেছে। এখানে কার্পজাতীয় মাছ, তেলাপিয়া ও পাঙাসসহ বিভিন্ন প্রজাতির মাছ উৎপাদন করা হয়।

সাধারণভাবে এসব খামারে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি, মানসম্মত ফিড এবং পানির গুণাগুণ নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে চাষ পরিচালনার কথা থাকলেও বাস্তবে কিছু খামারে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। বিশেষ করে ভালুকা এলাকায় কিছু খামারে নিম্নমানের ও স্বাস্থ্যঝুঁকিপূর্ণ উপাদান ব্যবহার করা হচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

সরেজমিন ও স্থানীয় সূত্রের বরাতে জানা যায়, কিছু খামারে মুরগির বিষ্ঠা, মরা মুরগি এবং পচা মাংসজাতীয় বর্জ্য মাছের খাদ্য হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। এতে উৎপাদন খরচ কম হলেও জনস্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে। এসব মাছ বাজারে বিক্রি হলেও অনেক ক্ষেত্রেই উৎপাদকরা নিজেরা সেগুলো খাচ্ছেন না বলে অভিযোগ রয়েছে।

উপজেলা মৎস্য অফিসের তথ্য অনুযায়ী, ভালুকার ছয়টি ইউনিয়নে প্রায় সাড়ে সাত হাজার মাছের খামার রয়েছে, যার মধ্যে মাত্র কিছু অংশ নিবন্ধিত। ফলে অনেক খামারই তদারকির বাইরে থেকে পরিচালিত হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ধরনের অনিয়মের ফলে মাছের শরীরে ক্ষতিকর জীবাণু ও অ্যান্টিবায়োটিকের অবশিষ্টাংশ জমা হতে পারে, যা দীর্ঘমেয়াদে মানুষের শরীরে কিডনি, লিভার ও হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়াতে পারে।

এ বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, নিয়মিত অভিযান ও ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে নিষিদ্ধ উপাদান ব্যবহারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি খামারিদের সচেতন করতে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

সর্বোপরি, মাছ চাষে এই ধরনের অনিয়ম নিয়ন্ত্রণ করা না গেলে শুধু মৎস্য খাত নয়, জনস্বাস্থ্যের ওপরও বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা সতর্ক করেছেন।

সংশ্লিষ্ট খবর

Back to top button