ধানের পচা গন্ধেও নেত্রকোণার কৃষকের নিরন্তর লড়াই

বাংলা টিভি ডেস্ক: টানা তিন দিনের ভারী বর্ষণ আর উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে নেত্রকোণার হাওরাঞ্চলে এখন শুধুই হাহাকার। চোখের সামনে তলিয়ে গেছে বিঘার পর বিঘা বোরো ধানক্ষেত। তবে দুর্যোগের মেঘ কাটিয়ে সূর্যের দেখা মিলতেই নতুন আশায় বুক বেঁধেছেন কৃষকরা। পচন ধরা ধানটুকু বাঁচাতে এখন তাদের শেষ ভরসা তপ্ত রোদ।
হাওরের বিভিন্ন এলাকায় দেখা গেছে, পরিবারের সদস্যদের নিয়ে পানির নিচ থেকে ধান কেটে তুলে শুকনো জায়গায় এনে শুকানোর চেষ্টা করছেন কৃষকরা। কোথাও জমাট করে রাখা ধান ছড়িয়ে দেয়া হয়েছে রোদে। পানিতে দীর্ঘসময় ডুবে থাকায় অনেক ধানেই পচন ধরেছে, ছড়াচ্ছে দুর্গন্ধ। তবুও এই ধানই এখন কৃষকদের কাছে অমূল্য-যদি কিছুটা চাল পাওয়া যায়, তাতেই চলবে বছরের খাবার।
স্থানীয় কৃষকরা জানান, কয়েকদিন ধরেই তাদের ধান পানির নিচে ছিল। এখন রোদ ওঠায় যতটুকু সম্ভব ধান তুলছেন। কিছুটা হলেও বাঁচাতে পারলে তা দিয়েই সংসার চলবে।
জেলা কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে জেলার ছয়টি উপজেলায় হাওরাঞ্চলে ৪১ হাজার ৬৫ হেক্টর জমিতে বোরো ধান আবাদ হয়েছে। এর মধ্যে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত প্রায় ২৬ হাজার ৯৮৯ হেক্টর জমির ধান কাটা হয়েছে। এখনও প্রায় ১৪ হাজার ৭৬ হেক্টর জমির ধান পানির নিচে রয়েছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত নদ-নদীর পানি আরও বৃদ্ধি পেলেও বিকেলের দিকে কিছুটা কমতে শুরু করেছে। তবে মাঠে নেমেও নতুন সমস্যার মুখে পড়েছেন কৃষকরা। শ্রমিক সংকটের কারণে দ্রুত ধান ঘরে তুলতে পারছেন না অনেকেই। ফলে সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে কাজ করতে হচ্ছে তাদের।
জেলা কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, টানা ২ থেকে ৪ দিন রোদ থাকলে বাকি ধান দ্রুত কেটে ঘরে তোলা সম্ভব হবে। কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, জেলায় মোট ১ লাখ ৮৫ হাজার ৫৪৭ হেক্টর জমিতে বোরো ধান আবাদ হয়েছে, যার মধ্যে হাওরাঞ্চলেই রয়েছে ৪১ হাজার ৬৫ হেক্টর জমি।
প্রকৃতির সঙ্গে লড়াই করে হাওরের কৃষকরা এখন সময়ের বিরুদ্ধে দৌড়চ্ছেন। কয়েকদিন টানা রোদ থাকলেই হয়তো বাঁচতে পারে তাদের শেষ সম্বল-আর তাতেই জুটবে পরিবারের দু’মুঠো খাবার।



