ক্রেতাশূন্য বাজারে হিন্দু খামারিদের হাহাকার, আত্মহত্যার হুমকি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গে কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে গবাদি পশু জবাই ও পশুর হাটে কড়াকড়ি আরোপকে কেন্দ্র করে রাজ্যজুড়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। প্রশাসনের কঠোর নজরদারি ও নতুন নির্দেশনার কারণে অনেক মুসলিম ক্রেতা গরুর হাটে যেতে ভয় পাচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এর ফলে বেশ কিছু পশুর হাটে ক্রেতার উপস্থিতি কমে গেছে এবং অনেকেই বিকল্প হিসেবে ছাগল বা ভেড়া কোরবানির কথা ভাবছেন।
এই পরিস্থিতিতে বিপাকে পড়েছেন রাজ্যের বহু হিন্দু গো-খামারি। সারা বছর ঋণ করে কোরবানির মৌসুমকে কেন্দ্র করে গরু লালন-পালন করা খামারিরা এখন বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কা করছেন। অনেকের দাবি, বাজারে ক্রেতা না থাকায় গরু বিক্রি অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে এবং তারা চরম হতাশার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।
সম্প্রতি কোরবানির ঈদ সামনে রেখে রাজ্য প্রশাসন ১৯৫০ সালের ‘ওয়েস্ট বেঙ্গল অ্যানিমেল স্লটার কন্ট্রোল অ্যাক্ট’ এবং আদালতের পুরোনো নির্দেশনা কঠোরভাবে বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেয়। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ না হলে গরু, বলদ বা মহিষ জবাই করা যাবে না। পশুর বয়স, শারীরিক সক্ষমতা ও স্বাস্থ্যগত অবস্থার বিষয়ে সরকারি পশু চিকিৎসক ও স্থানীয় প্রশাসনের যৌথ অনুমোদন প্রয়োজন হবে। এছাড়া প্রকাশ্য স্থানে পশু জবাই সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ রাখা হয়েছে।
এদিকে খামারি ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের একাংশ এসব নিয়ম নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তাদের বক্তব্য, গবাদি পশুর সঠিক বয়স নির্ধারণ করা বাস্তবে কঠিন এবং অতিরিক্ত কড়াকড়ির কারণে সাধারণ ব্যবসায়ী ও খামারিরা আতঙ্কিত হয়ে পড়ছেন। অনেক পশুর হাটে বেচাকেনা কমে যাওয়ায় প্রান্তিক কৃষক ও ব্যবসায়ীদের আয়ও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
খামারিদের অভিযোগ, বছরের পর বছর গরু পালন করে কোরবানির সময় বিক্রির ওপর তারা নির্ভরশীল থাকেন। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে গরু বিক্রি না হলে ঋণের বোঝা সামলানো কঠিন হয়ে পড়বে। কেউ কেউ ক্ষোভ প্রকাশ করে কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের কাছে ক্ষতিপূরণ কিংবা বিকল্প কর্মসংস্থানের দাবি জানিয়েছেন।
অন্যদিকে সমালোচকরা প্রশ্ন তুলছেন, একদিকে দেশে গবাদি পশুর মাংস রপ্তানি থেকে বিপুল বৈদেশিক মুদ্রা আয় হচ্ছে, অন্যদিকে অভ্যন্তরীণ বাজারে ক্ষুদ্র খামারিদের নানা বিধিনিষেধের মুখে পড়তে হচ্ছে কেন। তাদের মতে, এতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন প্রান্তিক কৃষক ও ছোট ব্যবসায়ীরা।



