
বাংলা টিভি ডেস্ক: দীর্ঘ এক দশক প্রবাসজীবন কাটিয়ে পরিবারের কাছে ফিরছিলেন রাকিবুল ইসলাম। সামনে ছিল নতুন জীবনের শুরু, কয়েক দিনের মধ্যেই হওয়ার কথা ছিল তার বিয়ে। কিন্তু স্বজনদের সঙ্গে আনন্দ ভাগাভাগি করার আগেই সড়ক দুর্ঘটনায় নিভে গেল তার জীবন। একই ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন তার পরিবারের আরও চার সদস্য।
মঙ্গলবার (২ জুন) ভোর সাড়ে ৪টার দিকে ঢাকা-মাওয়া-ভাঙ্গা এক্সপ্রেসওয়ের ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার মালিগ্রাম বাসস্ট্যান্ড এলাকায় এ মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে। ঢাকা থেকে যশোরগামী একটি প্রাইভেট কার দাঁড়িয়ে থাকা ট্রাকের পেছনে সজোরে ধাক্কা দিলে ঘটনাস্থলেই চারজন নিহত হন। পরে হাসপাতালে নেওয়ার পর আরও একজনের মৃত্যু হয়।
নিহতরা হলেন যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলার উজ্জ্বলপুর গ্রামের মালয়েশিয়াপ্রবাসী রাকিবুল ইসলাম (৩০), তার মা নুরজাহান বেগম (৫০), ছোট ভাই আরিফুল ইসলাম (২৪), বোন আয়শা বেগম (২৮) এবং প্রাইভেট কারের চালক। আহত হয়েছেন দুই শিশু—আশরাফুল হোসেন (৭) ও তাসফিয়া (৩)। তারা বর্তমানে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
স্বজনদের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রায় ১০ বছর পর দেশে ফিরেছিলেন রাকিবুল। সোমবার রাতে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পর পরিবারের সদস্যরা তাকে নিতে ঢাকায় যান। আগামী ৬ জুন তার বিয়ের তারিখ নির্ধারিত ছিল। বিমানবন্দর থেকে বাড়ি ফেরার পথেই ঘটে এই দুর্ঘটনা।
রাকিবুলের ভগ্নিপতি ইলিয়াস হোসেন বলেন, পরিবারের সবাই নতুন জীবনের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। কিন্তু একটি দুর্ঘটনা মুহূর্তেই সব স্বপ্ন ও আনন্দ কেড়ে নিয়েছে।
পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা গেছে, দুর্ঘটনার পর প্রাইভেট কারটি ট্রাকের পেছনে আটকে যায় এবং মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। খবর পেয়ে উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান চালায়। গাড়ির অংশ কেটে হতাহতদের বের করতে হয়।
শিবচর হাইওয়ে থানার ওসি মিজানুর রহমান জানান, দুর্ঘটনার কারণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
একটি পরিবারের বহুদিনের অপেক্ষা, স্বপ্ন আর আনন্দঘন প্রত্যাবর্তন শেষ পর্যন্ত পরিণত হলো শোকের মাতমে। কয়েক দিনের মধ্যে যে বাড়িতে বিয়ের উৎসব হওয়ার কথা ছিল, সেখানে এখন নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া।



