বাংলাদেশ থেকে যে কারণে কাঁঠাল নিতে চায় চীন

বাংলা টিভি ডেস্ক: বাংলাদেশ থেকে চীনে কাঁঠাল রপ্তানির পথ আরও সহজ করতে দুই দেশের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সই হয়েছে বলে জানা গেছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশের কৃষি পণ্যের জন্য বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ বাজারে প্রবেশের নতুন সুযোগ সৃষ্টি হতে পারে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, চীনের কাঁঠালের চাহিদা নতুন নয়। এর আগেও দেশটি বাংলাদেশ থেকে কাঁঠাল ও পেয়ারাসহ বিভিন্ন ফল আমদানির আগ্রহ প্রকাশ করেছিল। এবার স্বাক্ষরিত সমঝোতার মাধ্যমে কাঁঠাল রপ্তানির আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া আরও এগিয়ে যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিনির্ভর দেশ হওয়া সত্ত্বেও আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের কৃষিপণ্য রপ্তানি এখনো সীমিত। চীনের মতো বড় বাজারে কাঁঠাল রপ্তানির সুযোগ তৈরি হলে কৃষকদের আয় বৃদ্ধি, বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন এবং কৃষিভিত্তিক শিল্পের সম্প্রসারণে ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। একই সঙ্গে অন্যান্য কৃষিপণ্যের জন্যও নতুন বাজার তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
তবে এই সম্ভাবনা কাজে লাগাতে পণ্যের গুণগত মান, আধুনিক প্রক্রিয়াজাতকরণ, সংরক্ষণ ব্যবস্থা এবং আন্তর্জাতিক মানসম্মত প্যাকেজিং নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন সংশ্লিষ্টরা। তাদের মতে, এসব ক্ষেত্রে সক্ষমতা বাড়ানো না গেলে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতা করা কঠিন হবে।
বর্তমানে বিশ্বের সবচেয়ে বড় কাঁঠাল আমদানিকারক দেশ চীন। দেশটি মূলত ভিয়েতনাম ও থাইল্যান্ড থেকে কাঁঠালের চাহিদা পূরণ করে। অন্যদিকে, বাংলাদেশ বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ কাঁঠাল উৎপাদনকারী দেশ হলেও বৈশ্বিক রপ্তানি বাজারে এর অংশগ্রহণ খুবই কম।
বিশেষজ্ঞদের তথ্য অনুযায়ী, দেশে প্রতি বছর বিপুল পরিমাণ কাঁঠাল উৎপাদিত হলেও অভ্যন্তরীণ চাহিদা সীমিত এবং পর্যাপ্ত রপ্তানি ও সংরক্ষণ সুবিধার অভাবে উৎপাদিত ফলের বড় একটি অংশ নষ্ট হয়ে যায়। তাই চীনের বাজারে প্রবেশের সুযোগ তৈরি হলে কৃষি অর্থনীতিতে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হতে পারে। তবে একই সঙ্গে দেশীয় চাহিদা ও পুষ্টি নিরাপত্তার বিষয়েও সমান গুরুত্ব দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তারা।



