বাংলাদেশ

টানা বৃষ্টিতে ডুবল কুমিল্লা নগরী, এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের দুর্ভোগ

বাংলা টিভি ডেস্ক: টানা ভারি বর্ষণে কুমিল্লা নগরীর বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। এতে সাধারণ মানুষের পাশাপাশি এইচএসসি পরীক্ষার্থীদেরও চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে। অনেক পরীক্ষার্থী বৃষ্টির পানি মাড়িয়ে ও ভিজে নির্ধারিত সময়ে পরীক্ষা কেন্দ্রে পৌঁছাতে পারেননি।

সোমবার (১৩ জুলাই) মাত্র তিন ঘণ্টার বৃষ্টিতে নগরীর প্রধান সড়ক, গলি ও আবাসিক এলাকাগুলো পানিতে তলিয়ে যায়। কোথাও হাঁটুসমান, আবার কোথাও কোমরসমান পানি জমে যায়। অনেক বাসাবাড়ি, দোকানপাট ও নিচু স্থাপনায় পানি ঢুকে পড়ায় দুর্ভোগে পড়েন নগরবাসী। বিশেষ করে নিম্ন আয়ের মানুষ, শ্রমজীবী ও কর্মজীবীরা বেশি সমস্যায় পড়েছেন।

সকালে কুমিল্লা সদর হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, জরুরি বিভাগসহ হাসপাতালের বিভিন্ন স্থানে পানি ঢুকে পড়েছে। কুমিল্লার সিভিল সার্জন আলী নুর মোহাম্মদ বশির আহমেদ জানান, বাইরের পানি হাসপাতাল চত্বরে প্রবেশ করায় সাময়িক সমস্যা তৈরি হয়েছে। তবে বিকল্প ব্যবস্থায় জরুরি চিকিৎসাসেবা চালু রাখা হয়েছে।

নগরীর মনোহরপুর, মহিলা কলেজ রোড, বাগানবাড়ি, দক্ষিণ চর্থা, জিলা স্কুল সড়ক, পুলিশ লাইন, রেসকোর্স, ঠাকুরপাড়া, বিসিক শিল্পনগরী, গোবিন্দপুর, মুরাদপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা সবচেয়ে বেশি দেখা গেছে। অনেক স্থানে ড্রেন উপচে ময়লা পানিও সড়কে ছড়িয়ে পড়ে।

সদর হাসপাতাল এলাকার ব্যবসায়ী আবুল কালাম বলেন, গত এক দশকের মধ্যে এবারই প্রথম তার দোকানের ভেতরে পানি ঢুকেছে। একই এলাকার বাসিন্দা আব্দুল লতিফ জানান, বাসার নিচতলায় পানি প্রবেশ করেছে এবং পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা খুব ধীরগতির।

এদিকে জলাবদ্ধতার মধ্যেই এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের কেন্দ্রে যেতে দুর্ভোগ পোহাতে হয়। মহিলা কলেজ কেন্দ্রের পরীক্ষার্থী লিপি আক্তার বলেন, এমন পরিস্থিতিতে পরীক্ষা নেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। অনেক পরীক্ষার্থী ভেজা কাপড়ে কেন্দ্রে পৌঁছান। কেউ কেউ পানিতে পড়েও যান। এ নিয়ে অভিভাবকদের মধ্যেও ক্ষোভ দেখা গেছে।

জলাবদ্ধতার সুযোগে রিকশা ও ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার ভাড়া বেড়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। অনেক যাত্রীকে অতিরিক্ত ভাড়া দিয়ে যাতায়াত করতে হয়েছে। মহিলা কলেজ পরীক্ষাকেন্দ্রে শিক্ষার্থীদের সহযোগিতায় নৌকার ব্যবস্থাও করা হয়।

কুমিল্লা আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় জেলায় ১৩৮ দশমিক ২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এর মধ্যে সোমবার ভোর থেকে সকাল ৯টা পর্যন্ত তিন ঘণ্টায় ১০৭ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। দিনভর আরও বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।

কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক আবুল বাসার জানান, ওই কেন্দ্রে ৮টি কলেজের প্রায় ২১০০ পরীক্ষার্থী অংশ নিচ্ছে। মাঠে পানি জমলেও পরীক্ষার কক্ষগুলোতে পানি প্রবেশ করেনি। পানির কারণে দেরিতে আসা পরীক্ষার্থীদের অতিরিক্ত সময় দেওয়ার নির্দেশনা দিয়েছে শিক্ষা বোর্ড।

কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক আহসান পারভেজ বলেন, ভারি বৃষ্টিতে কয়েকটি কেন্দ্রে যাওয়ার পথে জলাবদ্ধতা তৈরি হলেও পরীক্ষার কার্যক্রম স্বাভাবিক রয়েছে। দেরিতে পৌঁছানো পরীক্ষার্থীদের বিষয়টি সহানুভূতির সঙ্গে বিবেচনা করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. ইউসুফ মোল্লা টিপু জানান, পরীক্ষা শুরুর আগেই তিনি বিভিন্ন কেন্দ্র পরিদর্শন করে পরীক্ষার্থীদের সহযোগিতা করেছেন। নগরীর জলাবদ্ধতা নিরসনে কাজ চলছে এবং দ্রুত পানি নেমে যাবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

সংশ্লিষ্ট খবর

Back to top button