
বাংলা টিভি ডেস্ক: টানা দুই দিন ভারী বৃষ্টিপাত না হওয়ায় রাঙ্গামাটির বন্যা পরিস্থিতির ধীরে ধীরে উন্নতি হচ্ছে। বিভিন্ন এলাকায় পানি কমতে শুরু করায় এখন বন্যার প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতির চিত্র সামনে আসছে। তবে অনেক স্থানে এখনো দুর্ভোগ কাটেনি।
সোমবার (১৩ জুলাই) সকাল থেকে বাঘাইছড়ির বিভিন্ন এলাকা এবং বিলাইছড়ি উপজেলার ফারুয়া বাজারে পানি নেমে যেতে শুরু করেছে। সাম্প্রতিক ভারী বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে সৃষ্ট আকস্মিক বন্যার পানি কমলেও ক্ষতিগ্রস্ত মানুষ এখনো খাদ্য, বিশুদ্ধ পানি ও শিশুখাদ্যের সংকটে রয়েছেন।
জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, বরকল উপজেলার ভূষণছড়া ও বড় হরিণা ইউনিয়নে বন্যা পরিস্থিতি স্থিতিশীল থাকলেও ভারতের মিজোরাম থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের কারণে কিছু এলাকায় এখনো পানি রয়েছে। এছাড়া বরকলের ঠেগা, খুব্বাং, চুমাচুমি এবং লংগদু ও রাজস্থলীর কয়েকটি গ্রামে নতুন করে কয়েকশ পরিবার পানিবন্দী হয়েছে।
বাঘাইছড়িতে পানি কমতে শুরু করায় অনেক পরিবার আশ্রয়কেন্দ্র ছেড়ে বাড়ি ফিরলেও সড়ক যোগাযোগ এখনো পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি। খাগড়াছড়ির সঙ্গে সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন থাকায় পণ্য পরিবহন ব্যাহত হচ্ছে, যা স্থানীয় বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সংকট সৃষ্টি করতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
বরকল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রাজীব দাশ পুরকায়স্থ জানান, উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়ন বন্যায় আক্রান্ত হয়েছে। বর্তমানে চারটি আশ্রয়কেন্দ্রে ২২৪ জন আশ্রয় নিয়েছেন এবং প্রায় ২০ হাজার মানুষ পানিবন্দী রয়েছেন। দুর্গম এলাকায় প্রবল স্রোতের কারণে ত্রাণ পৌঁছাতে কিছুটা সমস্যা হলেও ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।
জেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে নিয়মিত তিন বেলা খাবার সরবরাহ করা হচ্ছে। একই সঙ্গে জেলায় এ পর্যন্ত ১৩১টি পাহাড়ধসের ঘটনা ঘটেছে।
অন্যদিকে বিলাইছড়ির ফারুয়া ইউনিয়ন থেকে পানি পুরোপুরি নেমে যাওয়ার পর সেখানে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির চিত্র দেখা যাচ্ছে। অনেক বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং ফারুয়া বাজারের দোকানপাটে দুই থেকে আড়াই ফুট পর্যন্ত পলিমাটি জমে রয়েছে। স্থানীয়রা এখন ঘরবাড়ি ও সড়ক পরিষ্কারের কাজে ব্যস্ত।
ফারুয়া বাজার কমিটির সভাপতি মো. হারুন বলেন, বন্যায় বাজার ও আশপাশের এলাকায় ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এখনও নির্ধারণ করা সম্ভব হয়নি।
এদিকে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন শেষে সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সড়ক, বিদ্যুৎ, কৃষি, মৎস্যসহ বিভিন্ন খাতে হওয়া ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ করে পুনর্বাসনের উদ্যোগ নেওয়া হবে। পাশাপাশি জেলা প্রশাসন, পার্বত্য জেলা পরিষদ, সেনাবাহিনী ও বিজিবি দুর্গম এলাকায় ত্রাণ ও সহায়তা কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।



