আন্দোলনের শঙ্কায় এইচএসসি কেন্দ্রে অভিভাবকদের বাড়তি উপস্থিতি

বাংলা টিভি ডেস্ক: পরীক্ষা স্থগিতের দাবিতে চলমান আন্দোলন এবং পরীক্ষা শেষে ঘোষিত লংমার্চ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে বুধবার (১৫ জুলাই) রাজধানীর বিভিন্ন এইচএসসি পরীক্ষাকেন্দ্রে বাড়তি সতর্কতার চিত্র দেখা গেছে। সম্ভাব্য অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির আশঙ্কায় অন্যান্য দিনের তুলনায় অনেক বেশি অভিভাবক পরীক্ষার্থীদের সঙ্গে কেন্দ্রে এসে অপেক্ষা করেছেন।
সকাল ১০টায় শুরু হওয়া এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার সময় সরকারি বিজ্ঞান কলেজ কেন্দ্রসহ রাজধানীর কয়েকটি কেন্দ্র ঘুরে দেখা যায়, কেন্দ্রের বাইরে বিপুলসংখ্যক অভিভাবক অবস্থান করছেন। কেউ ফটকের সামনে, কেউ গাছের ছায়ায়, আবার কেউ ফুটপাতে বসে সন্তানদের জন্য অপেক্ষা করছিলেন। পরীক্ষা শেষে সন্তানদের একা না পাঠিয়ে নিজ দায়িত্বে বাসায় নিয়ে যাওয়ার প্রস্তুতির কথাও জানান তারা।
বুধবার আটটি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে পদার্থবিজ্ঞান (তত্ত্বীয়) দ্বিতীয় পত্র, হিসাববিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র এবং যুক্তিবিদ্যা দ্বিতীয় পত্রের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। একই সময়ে মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডে আরবি দ্বিতীয় পত্র এবং কারিগরি শিক্ষা বোর্ডে ব্যবসায় সংগঠন ও ব্যবস্থাপনা-২ বিষয়ের পরীক্ষাও নেওয়া হচ্ছে।
এদিকে, পরীক্ষা শেষে দুপুর দেড়টায় রাজধানীর উত্তরার বিএনএস সেন্টার থেকে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উদ্দেশে লংমার্চ কর্মসূচির ঘোষণা দিয়েছেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। এ কর্মসূচিকে ঘিরেই পরীক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিয়ে অভিভাবকদের উদ্বেগ আরও বেড়েছে।
সরকারি বিজ্ঞান কলেজ কেন্দ্রের বাইরে অপেক্ষমাণ কয়েকজন অভিভাবক জানান, সাম্প্রতিক পরিস্থিতির কারণে তারা সন্তানদের একা যাতায়াত করতে দিতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করছেন না। তাই পরীক্ষা শেষ হওয়ার পর তাদের সঙ্গে করেই বাসায় ফিরবেন।
এর আগে মঙ্গলবার রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় পরীক্ষা স্থগিতের দাবিতে শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ ও সড়ক অবরোধ কর্মসূচি পালন করেন। তাদের দাবির মধ্যে রয়েছে— দুর্যোগ পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা স্থগিত রাখা, ১৩ জুলাই পরীক্ষায় অংশ নিতে না পারা শিক্ষার্থীদের জন্য পুনঃপরীক্ষার ব্যবস্থা এবং শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ।
তবে আন্তঃশিক্ষা বোর্ড পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক কমিটি জানিয়েছে, বন্যা ও জলাবদ্ধতার কারণে শুধুমাত্র চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে। বাকি সব শিক্ষা বোর্ডে পূর্বঘোষিত সময়সূচি অনুযায়ী পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হচ্ছে এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয়ও সেই সিদ্ধান্ত বহাল রেখেছে।



