বাংলাদেশ

দেরি করে যাওয়ায় নিজ এলাকার বন্যার্তদের কাছে ক্ষমা চাইলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

বাংলা টিভি ডেস্ক: কক্সবাজারের চকরিয়া, পেকুয়া ও নবগঠিত মাতামুহুরী উপজেলার বন্যাকবলিত এলাকা পরিদর্শনে গিয়ে দুর্গত মানুষের কাছে দেরিতে পৌঁছানোর জন্য একাধিকবার ক্ষমা প্রার্থনা করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে তিনি আঞ্চলিক ভাষায় বলেন, ‘আঁই দেরি গরি আইস্সিদে, আঁরে মাফ গরি দিয়্য’ (আমি দেরি করে এসেছি, আমাকে ক্ষমা করে দিন)।

শুক্র ও শনিবার বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ফাঁসিয়াখালী, কাকারা, লক্ষ্যারচর, বরইতলী, পেকুয়া ও মাতামুহুরী উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখেন তিনি। এ সময় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের হাতে ত্রাণসামগ্রী তুলে দেন এবং বন্যার কারণে হওয়া ক্ষয়ক্ষতির খোঁজখবর নেন।

স্থানীয়দের উদ্দেশে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বন্যার শুরুতে রাষ্ট্রীয় দায়িত্বে বিদেশে থাকায় তিনি দ্রুত দুর্গত মানুষের পাশে আসতে পারেননি। দেশে ফেরার পর জাতীয় সংসদের গুরুত্বপূর্ণ অধিবেশনে অংশ নেওয়ার কারণে আরও কিছুটা সময় লেগেছে। তবে তিনি বলেন, ‘আমি না থাকলেও আপনাদের জন্য সরকারের সহযোগিতা থেমে ছিল না। কোথাও বিজিবি, কোথাও পুলিশ, কোথাও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়, আবার কোথাও বেসরকারি সংগঠন ও আমাদের দলীয় উদ্যোগে ত্রাণ কার্যক্রম চলেছে। সবাই মিলে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে থাকার চেষ্টা করেছি।’

তিনি বলেন, কাকারা, সুরাজপুর-মানিকপুর এবং বরইতলী-পহরচাঁদা এলাকার মানুষ প্রায় প্রতিবছরই বন্যার দুর্ভোগের মুখোমুখি হন। তাই শুধু ত্রাণ বিতরণ নয়, ভবিষ্যতে যেন এমন পরিস্থিতি বারবার সৃষ্টি না হয়, সে জন্য দ্রুত পানি নিষ্কাশনের স্থায়ী ব্যবস্থা গ্রহণের প্রয়োজন রয়েছে। স্থানীয়দের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে কাকারা এলাকার বাইশ্যাছড়া খাল পুনঃখননের আশ্বাসও দেন তিনি।

বানভাসি মানুষের উদ্দেশে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘আমরা জনগণের সরকার। যে কোনো দুর্যোগে জনগণের পাশে ছিলাম, আছি এবং ভবিষ্যতেও থাকব। সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি দলীয়ভাবেও সহযোগিতা অব্যাহত রয়েছে। এই দুর্যোগে কাউকে একা ফেলে রাখা হবে না।’

দেশব্যাপী বন্যা পরিস্থিতি নিয়ে তিনি জানান, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার প্রকৃত চিত্র জানতে সরকারিভাবে জরিপ চলছে। রাস্তাঘাট, ঘরবাড়ি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, কৃষিজমি, গবাদিপশু এবং অন্যান্য ক্ষয়ক্ষতির তথ্য সংগ্রহের পর পুনর্বাসন ও সহায়তা কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হবে।

এ সময় স্থানীয় বাসিন্দারা ত্রাণের পাশাপাশি মাতামুহুরী নদীতে টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণ এবং নদী ও খাল পুনঃসংস্কারের দাবি জানান। তাদের বক্তব্য মনোযোগ দিয়ে শোনেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এবং বিষয়টি সরকারের উচ্চপর্যায়ে গুরুত্বের সঙ্গে উত্থাপনের আশ্বাস দেন।

এর আগে শনিবার সকালে পেকুয়া উপজেলায় শামসুল হক ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ২০টি পরিবারের মধ্যে ঘর নির্মাণ সহায়তা ও গৃহস্থালি সামগ্রী বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে অংশ নেন তিনি।

পরিদর্শন ও ত্রাণ বিতরণ কর্মসূচিতে প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য এবং স্থানীয় রাজনৈতিক নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

সংশ্লিষ্ট খবর

Back to top button