বাংলাদেশ

‘ভালোবাসা আর পরিবারের অমতে গিয়ে করা বিয়েই যেন ছেলের জন্য কাল হলো’

বাংলা টিভি ডেস্ক: রাজধানীর ডেমরা পুলিশ লাইন্সের একটি বহুতল ভবন থেকে সাইদুল ইসলাম (২১) নামে এক পুলিশ কনস্টেবলের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। মৃত্যুর আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে স্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে দেওয়া তার আবেগঘন পোস্ট এবং আকস্মিক মৃত্যুতে ফেনীর গ্রামের বাড়িতে নেমে এসেছে শোকের ছায়া।

নিহত সাইদুল ইসলাম ফেনী সদর উপজেলার লেমুয়া ইউনিয়নের উত্তর চাঁদপুর গ্রামের বাসিন্দা মো. সাদেকের একমাত্র ছেলে। প্রায় নয় মাস আগে বাংলাদেশ পুলিশে কনস্টেবল পদে যোগ দেন তিনি। কর্মস্থলের কারণে ডেমরা পুলিশ লাইন্সের একটি ভবনে থাকতেন।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, ছেলের মৃত্যুর খবর পাওয়ার পর মা-বাবাসহ স্বজনরা ভেঙে পড়েছেন। একমাত্র সন্তানকে হারিয়ে শোকে মুহ্যমান পরিবারটি। স্বজনদের দাবি, মৃত্যুর আগে পর্যন্ত সাইদুলের সঙ্গে পরিবারের সদস্যদের যোগাযোগ ছিল।

সাইদুলের চাচা মো. সোহাগ জানান, প্রেমের সম্পর্কের সূত্র ধরে কয়েক মাস আগে সোনাগাজীর এক তরুণীকে বিয়ে করেছিলেন তিনি। তবে পরবর্তীতে পারিবারিক বিরোধের কারণে তাদের দাম্পত্য জীবনে সমস্যা তৈরি হয় এবং বিবাহবিচ্ছেদ ঘটে। এই বিচ্ছেদের পর থেকেই সাইদুল মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন বলে জানান তিনি।

স্থানীয় বাসিন্দা এম. এমরান পাটোয়ারী জানান, পুলিশ লাইন্স থেকে ফোন করে পরিবারের সদস্যদের সাইদুলের মৃত্যুর খবর জানানো হয়। ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ গ্রামের বাড়িতে নেওয়া হলে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হবে।

পুলিশ সূত্র জানায়, বৃহস্পতিবার রাতে ডেমরা পুলিশ লাইন্সের কক্ষ থেকে সাইদুলকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করেন সহকর্মীরা। পরে তাকে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ পরিদর্শক মোহাম্মদ ফারুক জানান, ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে এবং বিষয়টি সংশ্লিষ্ট থানাকে জানানো হয়েছে।

এ ঘটনায় শুক্রবার নিহতের বাবা মো. সাদেক ডেমরা থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা করেছেন। পুলিশ জানিয়েছে, মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে তদন্ত চলছে।

মৃত্যুর আগে সাইদুল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে স্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে একটি দীর্ঘ আবেগঘন পোস্ট দেন। সেখানে তিনি দাম্পত্য সম্পর্কের টানাপোড়েন, বিচ্ছেদের কষ্ট, মানসিক চাপ এবং নিজের অনুভূতির কথা তুলে ধরেন। পুরোনো স্মৃতি উল্লেখ করে তিনি সম্পর্ক হারানোর বেদনা প্রকাশ করেন এবং পরিবারের সদস্যদের কাছেও নিজের কষ্টের কথা জানান।

সাইদুলের ওই পোস্টে ব্যক্তিগত সম্পর্কের ভাঙন, বিশ্বাসের সংকট এবং গভীর মানসিক যন্ত্রণার প্রতিফলন দেখা যায় বলে জানিয়েছেন তার পরিচিতরা।

এদিকে স্থানীয় বাসিন্দারা ঘটনার পেছনের প্রকৃত কারণ উদঘাটনে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। পুলিশ জানিয়েছে, তদন্ত শেষে বিস্তারিত তথ্য জানা যাবে।

সংশ্লিষ্ট খবর

Back to top button