গ্রাম বাংলাদেশবাংলা

বাংলা টিভিকে সংবাদ প্রকাশের পর সহায়তা পেল অসহায় সেই দম্পতি

সিরাজগঞ্জ (ডিজিটাল) প্রতিনিধি: একটি সংবাদই বদলে দিলো দুই অসহায় বৃদ্ধ মানুষের জীবনের গল্প। বাংলা টিভিতে গত ২১ জুন প্রচারিত সংবাদে উঠে এসেছিল সিরাজগঞ্জের কামারখন্দ উপজেলার ভদ্রঘাঁট ইউনিয়নের বানিয়াগাঁতী গ্রামের ৯০ বছর বয়সী আছাব আলী ও তার ৮০ বছর বয়সী স্ত্রী সালেকা বেগমের করুণ জীবনসংগ্রামের চিত্র। ১০ সন্তানের বাবা-মা হয়েও অনাহার, অসুস্থতা ও চরম অবহেলায় মানবেতর জীবন কাটাচ্ছিলেন তারা। সংবাদটি প্রচারের পর দেশ-বিদেশের মানবিক মানুষের সহায়তায় তাদের হাতে পৌঁছেছে মোট ৮০ হাজার টাকার নগদ অর্থ ও প্রয়োজনীয় সামগ্রী।

জানা যায়, সংবাদটি প্রচারের পর মানবতার ফেরিওয়ালা হিসেবে পরিচিত মামুন বিশ্বাস উদ্যোগ নিয়ে বিভিন্ন মানুষের সহযোগিতায় ৭০ হাজার টাকা সংগ্রহ করেন। এর মধ্যে প্রায় ৩০ হাজার টাকার হুইলচেয়ার, ফ্যান, নতুন শাড়ি, নতুন পাঞ্জাবি, লেপ-তোশক, চার বস্তা চাল, একটি বড় মাছ, চারটি মুরগি ও ভোজ্যতেলসহ প্রায় তিন মাসের নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী বৃদ্ধ দম্পতির হাতে তুলে দেওয়া হয়। পাশাপাশি ৪০ হাজার টাকা নগদ সহায়তাও দেওয়া হয়।

এর আগে, বাংলা টিভিতে একই সংবাদ প্রচারের পর গত ২৯ জুন আরও ১০ হাজার টাকার এক মাসের খাদ্যসামগ্রী উপহার পেয়েছিলেন আছাব আলী ও সালেকা বেগম। সব মিলিয়ে তারা পেয়েছেন প্রায় ৮০ হাজার টাকার সহযোগিতা।

সহযোগিতা পেয়ে আবেগাপ্লুত সালেকা বেগম বলেন, “জীবনেও ভাবি নাই যে এত কিছু পাবো। ফ্যান, হুইলচেয়ার, লেপ-তোশক, সব কিছুই পাইছি। টাকা পাইছি। আমরা অনেক খুশি হয়েছি।”

কান্নাজড়িত কণ্ঠে আছাব আলী বলেন, “চাল পাইছি, জামা পাইছি…” এরপর আবেগে আর কথা বলতে পারেননি তিনি।

মামুন বিশ্বাস বলেন, “বাংলা টিভিতে আছাব আলী ও সালেকা দম্পতির সংবাদ দেখে খুব খারাপ লাগে। এরপর মানুষের সহযোগিতায় ৭০ হাজার টাকা সংগ্রহ করি। ৩০ হাজার টাকার প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র এবং ৪০ হাজার টাকা নগদ তাদের হাতে তুলে দিয়েছি। বাংলা টিভিকে ধন্যবাদ। এই সংবাদ প্রচার না হলে হয়তো তাদের খোঁজই পেতাম না।”

স্থানীয়দের মতে, এই সহযোগিতা বৃদ্ধ দম্পতির জীবনে নতুন আশার সঞ্চার করেছে। তবে তাদের এখনও প্রয়োজন একটি নিরাপদ বসতঘর, নিয়মিত চিকিৎসা এবং দীর্ঘমেয়াদি সহায়তা। সমাজের বিত্তবান ব্যক্তি, জনপ্রতিনিধি ও মানবিক সংগঠনগুলো পাশে দাঁড়ালে জীবনের শেষ সময়টুকু আরও স্বস্তিতে কাটাতে পারবেন আছাব আলী ও সালেকা বেগম।

সংশ্লিষ্ট খবর

Back to top button