হাঁস খাওয়ার অভিযোগ তুলে রশিতে বেঁধে দুই কুকুরকে পিটিয়ে হত্যা

বাংলা টিভি ডেস্ক: পটুয়াখালী সদর উপজেলায় রশি দিয়ে বেঁধে দুটি কুকুরকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর এলাকায় ব্যাপক প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) বেলা ১১টার দিকে সদর উপজেলার আউলিয়াপুর ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের বাদুরা বাজারসংলগ্ন খেজুরতলা স্ট্যান্ড এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
ভিডিওতে দেখা যায়, দুটি কুকুরকে রশি দিয়ে বেঁধে রাখা হয়েছে। এ সময় এক ব্যক্তি মোটা লাঠি দিয়ে কুকুর দুটির মাথায় আঘাত করছেন এবং আরেকজনকে পাশে সহযোগিতা করতে দেখা যায়। গুরুতর আহত অবস্থায় কুকুর দুটি ছটফট করতে থাকে। পরে অতিরিক্ত আঘাতে ঘটনাস্থলেই তাদের মৃত্যু হয় বলে স্থানীয়রা জানান।
স্থানীয়দের অভিযোগ, খেজুরতলা এলাকার দোকানদার জাহাঙ্গীর প্যাদা দীর্ঘদিন ধরে কুকুর দুটিকে লালন-পালন করে আসছিলেন। সম্প্রতি স্থানীয় বাসিন্দা মনজু হাওলাদারের কয়েকটি হাঁসকে একটি কুকুর কামড় দিয়েছে বলে অভিযোগ ওঠে। তবে ওই অভিযোগ জাহাঙ্গীরের পোষা কুকুর দুটির ওপর দেওয়া হয় বলে দাবি করা হয়েছে। পরে হাঁসের ক্ষতিপূরণ হিসেবে তার কাছে টাকা দাবি করা হয়। টাকা দিতে না পারায় তার সামনেই কুকুর দুটিকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন জাহাঙ্গীর।
জাহাঙ্গীর প্যাদা বলেন, কুকুর দুটি তিনি প্রায় চার বছর ধরে পালন করছেন এবং নিয়মিত টিকাও দেওয়া হয়েছে। তার দাবি, ঘটনার সময় কুকুর দুটি অন্য জায়গায় ছিল। তিনি অভিযোগ করেন, ক্ষতিপূরণের টাকা দিতে না পারায় মনজু হাওলাদার ও জহির হাওলাদার তার চোখের সামনে কুকুর দুটিকে বেঁধে পিটিয়ে হত্যা করেন।
তিনি আরও বলেন, নিজের পোষা প্রাণীকে এভাবে মারা দেখতে পেয়ে তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন এবং এ ঘটনার বিচার চান।
অভিযোগে অভিযুক্ত মনজু হাওলাদার খেজুরতলা স্ট্যান্ড এলাকার রশিদ হাওলাদারের ছেলে এবং জহির হাওলাদার একই এলাকার নুর ইসলাম হাওলাদারের ছেলে বলে জানা গেছে। তবে তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব না হওয়ায় এ বিষয়ে তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
স্থানীয় বাসিন্দারা এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করেছেন। তাদের মতে, এ ধরনের নিষ্ঠুরতা বন্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।
পটুয়াখালী সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান জানান, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বিষয়টি তাদের জানিয়েছেন। পুলিশ ঘটনাটি খতিয়ে দেখছে।
সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রওজাতুন জান্নাত বলেন, তিনি ইতোমধ্যে সদর থানার ওসিকে বিষয়টি জানিয়েছেন এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে অনুরোধ করেছেন। এ ঘটনায় আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
বাংলাদেশের প্রাণিকল্যাণ আইন, ২০১৯ অনুযায়ী প্রাণীর প্রতি নিষ্ঠুর আচরণ ও হত্যা শাস্তিযোগ্য অপরাধ।



