বাংলাদেশ

ছোট ভাইয়ের বউয়ের সঙ্গে পরকীয়া, প্রতিবাদ করায় স্ত্রীকে পিটিয়ে হত্যা

বাংলা টিভি ডেস্ক: বরগুনার আমতলীতে সুপ্রিয়া রানী নামে এক গৃহবধূকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে তার স্বামী অজয় চন্দ্র হাওলাদারের বিরুদ্ধে। নিহতের পরিবারের অভিযোগ, স্বামীর ছোট ভাইয়ের স্ত্রীর সঙ্গে কথিত সম্পর্কের প্রতিবাদ করায় তাকে নির্যাতনের শিকার হতে হয়েছে। মৃত্যুর পর স্বামী ও তার স্বজনরা হাসপাতাল থেকে লাশ ফেলে চলে যান বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।

শুক্রবার (২৪ জুলাই) পুলিশ নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য বরগুনা জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে। এর আগে বৃহস্পতিবার রাতে আমতলী উপজেলার হরিমৃত্যুঞ্জয় গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

এ ঘটনায় নিহতের মা দেপালী রানী বাদী হয়ে অজয় চন্দ্র হাওলাদারকে প্রধান আসামি করে আমতলী থানায় হত্যা মামলা করেছেন। ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার সন্দেহে শুক্রবার দুপুরে অজয়ের বড় বোন রমা রানী হাওলাদারকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

পুলিশ ও স্বজনদের তথ্য অনুযায়ী, ২০১২ সালে গাজীপুর বন্দরের বিমল বেপারীর মেয়ে সুপ্রিয়ার সঙ্গে হরিমৃত্যুঞ্জয় গ্রামের গোপাল চন্দ্র হাওলাদারের ছেলে অজয় চন্দ্র হাওলাদারের বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই সুপ্রিয়া বিভিন্নভাবে নির্যাতনের শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন তার মা।

দেপালী রানীর অভিযোগ, প্রায় পাঁচ বছর ধরে অজয় চন্দ্র হাওলাদার তার ছোট ভাই উত্তর হাওলাদারের স্ত্রী স্বরনিকার সঙ্গে সম্পর্কের জড়িয়ে পড়েন। বিষয়টির প্রতিবাদ করায় সুপ্রিয়াকে একাধিকবার নির্যাতন করা হয়।

তিনি জানান, বৃহস্পতিবার রাত ৮টার দিকে এ বিষয় নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে অজয় তার স্ত্রীকে মারধর করেন। পরে সুপ্রিয়া মোবাইল ফোনে বিষয়টি তার মাকে জানান। কিছুক্ষণ পর অজয় শাশুড়িকে ফোন করে জানান, সুপ্রিয়া গলায় ফাঁস দিয়েছেন। এরপর তাকে উদ্ধার করে আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

নিহতের পরিবারের অভিযোগ, মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর অজয় ও তার স্বজনরা হাসপাতাল থেকে চলে যান। পরে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।

নিহত সুপ্রিয়ার মেয়ে মিথিলা অভিযোগ করে বলেন, বাবার কথিত সম্পর্কের প্রতিবাদ করায় তার মাকে হত্যা করা হয়েছে। তিনি এ ঘটনার বিচার দাবি করেন।

সুপ্রিয়ার মা দেপালী রানীও দাবি করেন, তার মেয়েকে পরিকল্পিতভাবে নির্যাতন করে হত্যা করা হয়েছে। তিনি ঘটনায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।

আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক ডা. নাজমুল হাসান রাহাত বলেন, হাসপাতালে আনার আগেই সুপ্রিয়ার মৃত্যু হয়েছে।

আমতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ইয়াকুব হোসাইন জানান, এ ঘটনায় হত্যা মামলা হয়েছে। রমা রানী হাওলাদার নামে একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য বরগুনা জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট খবর

Back to top button