হাসপাতাল থেকে রোগীর বিচ্ছিন্ন পা উধাও, ডান পা ছাড়াই দাফন

দৌলতপুর (কুষ্টিয়া) প্রতিনিধি: কুষ্টিয়া ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে সড়ক দুর্ঘটনায় আহত এক ব্যক্তির বিচ্ছিন্ন ডান পা হারিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হলে পায়ের অংশ ছাড়াই মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়। বৃহস্পতিবার সকালে ওই অবস্থাতেই তার দাফন সম্পন্ন হয়েছে।
নিহত হাসেম আলী (৬০) কুষ্টিয়ার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি) থানার আব্দালপুর গ্রামের বাসিন্দা এবং পেশায় কৃষক ছিলেন।
স্বজনদের অভিযোগ, বুধবার বিকেলে সড়ক দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হওয়ার পর হাসেম আলীকে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। দুর্ঘটনায় তার ডান পা বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুর পর মরদেহ বুঝে নিতে গিয়ে পরিবারের সদস্যরা দেখতে পান, বিচ্ছিন্ন পায়ের অংশটি আর খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। হাসপাতালের অপারেশন থিয়েটারসহ বিভিন্ন স্থানে খোঁজ করেও সেটি উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।
নিহতের ভাই রাশিদুর রহমান বলেন, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছে বারবার খোঁজ নেওয়া হলেও বিচ্ছিন্ন পায়ের কোনো সন্ধান মেলেনি। এ ঘটনায় পরিবার গভীর হতাশা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছে।
আব্দালপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আলী হায়দার স্বপন জানান, দীর্ঘ সময় অনুসন্ধান চালিয়েও পায়ের অংশটি পাওয়া যায়নি। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বুধবার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে আব্দালপুরের শাহপুর নতুন মসজিদ মোড় এলাকায় একটি ইজিবাইক ও ব্যাটারিচালিত ভ্যানের মুখোমুখি সংঘর্ষে গুরুতর আহত হন ভ্যানযাত্রী হাসেম আলী। স্থানীয়রা তাকে বিচ্ছিন্ন পাসহ উদ্ধার করে কুষ্টিয়া ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান। চিকিৎসকের পরামর্শে অপারেশন থিয়েটারে নেওয়ার পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। পরে স্বজনরা অভিযোগ করেন, অপারেশন থিয়েটার থেকেই তার বিচ্ছিন্ন ডান পা নিখোঁজ হয়েছে।
এ বিষয়ে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ইকবাল হাসান বলেন, প্রাথমিকভাবে তিনি জেনেছেন হাসপাতালের স্টাফরা বিচ্ছিন্ন পায়ের অংশটি স্বজনদের কাছে বুঝিয়ে দিয়েছেন। এরপর কী ঘটেছে তা তার জানা নেই। তবে লিখিত অভিযোগ পেলে বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।



