ইন্দোনেশিয়ায় ৭.৭ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প, নিহত ৫, ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ইন্দোনেশিয়ার পূর্বাঞ্চলে শক্তিশালী ৭ দশমিক ৭ মাত্রার ভূমিকম্পে অন্তত পাঁচজন নিহত হয়েছেন। শনিবার (১৫ আগস্ট) ভোরে আঘাত হানা এ ভূমিকম্পে বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে।
দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পূর্ব নুসা তেংগারা প্রদেশের গভর্নর ইমানুয়েল মেলকিয়াডেস লাকা লেনা জানিয়েছেন, ভূমিকম্পের সময় ঘুমিয়ে থাকা অবস্থায় ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে।
ইন্দোনেশিয়ার আবহাওয়া, জলবায়ু ও ভূপদার্থবিদ্যা সংস্থা (বিএমকেজি) জানায়, স্থানীয় সময় ভোর ৪টা ৫৮ মিনিটে ভূমিকম্পটি আঘাত হানে। এর উৎপত্তিস্থল ছিল ভূপৃষ্ঠের প্রায় ১৫ কিলোমিটার গভীরে। ভূমিকম্পের পর বেশ কয়েকটি পরাঘাতও অনুভূত হয়।
রাজধানী জাকার্তায় এক সংবাদ সম্মেলনে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থার মুখপাত্র বার্টন সুয়ার পেলিতা পাঞ্জাইতান প্রাথমিকভাবে দুজনের মৃত্যুর খবর জানিয়েছিলেন। তাদের মধ্যে একজন পুরুষ ও একজন নারী ছিলেন। পরে স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিহতের সংখ্যা পাঁচজন বলে জানানো হয়। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আরও তথ্য সংগ্রহের পর হতাহত ও ক্ষয়ক্ষতির চূড়ান্ত হিসাব প্রকাশ করা হবে।
ভূমিকম্পের পর ফ্লোরেস দ্বীপের কয়েকটি এলাকায় প্রায় তিন ফুট উচ্চতার সুনামি আঘাত হানে। এ ঘটনায় উপকূলীয় এলাকায় সুনামি সতর্কতা জারি করা হয় এবং আতঙ্কিত অনেক মানুষ নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য উঁচু এলাকায় চলে যান। পরে সতর্কতা প্রত্যাহার করা হয়েছে।
বিএমকেজির ভূমিকম্প ও সুনামি বিভাগের পরিচালক উইজায়ান্তো বলেন, সুনামি সতর্কতা তুলে নেওয়া হলেও সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
এদিকে ভূমিকম্পের পর বিভিন্ন স্থান থেকে ধারণ করা ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। রয়টার্সের যাচাই করা একটি ভিডিওতে ফ্লোরেস দ্বীপের মাউমেরে শহরের একটি বন্দরে ভবনের একটি অংশ ধসে পড়তে দেখা যায়। এ সময় আতঙ্কিত লোকজনকে চিৎকার করে রাস্তায় ছুটে যেতে দেখা যায়।
অন্যদিকে স্থানীয় কমপাস টিভিতে সম্প্রচারিত ফুটেজে পূর্ব নুসা তেংগারা প্রদেশের এন্দে এলাকার একটি হাসপাতাল থেকে রোগীদের বাইরে সরিয়ে নেওয়ার দৃশ্য দেখা গেছে। উদ্ধারকাজ ও ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণের কাজ অব্যাহত রয়েছে।



