সৌদির আন্তর্জাতিক কোরআন প্রতিযোগিতায় প্রথম বাংলাদেশের হাফেজ জাকারিয়া

বাংলা টিভি ডেস্ক: সৌদি আরবের পবিত্র মক্কা নগরীতে অনুষ্ঠিত ৪৬তম কিং আবদুল আজিজ আন্তর্জাতিক কোরআন হিফজ, তিলাওয়াত ও তাফসির প্রতিযোগিতায় অসাধারণ সাফল্য অর্জন করেছেন বাংলাদেশের তরুণ হাফেজ নুরুদ্দিন জাকারিয়া। বিশ্বের ১৩৩টি দেশের শত শত প্রতিযোগীকে পেছনে ফেলে তিনি চতুর্থ শাখায় প্রথম স্থান লাভ করেছেন।
রাজধানীর আর রায়হান ইন্টারন্যাশনাল মাদরাসার শিক্ষার্থী নুরুদ্দিন জাকারিয়া এবারের প্রতিযোগিতায় চতুর্থ শাখায় অংশ নেন। এই বিভাগে প্রতিযোগীদের টানা ১৫ পারা কোরআন হিফজের পাশাপাশি শুদ্ধ তিলাওয়াত ও তাজবিদের দক্ষতা যাচাই করা হয়। প্রতিযোগিতার বিভিন্ন ধাপ সফলভাবে অতিক্রম করে শেষ পর্যন্ত সেরার স্বীকৃতি পান তিনি।
সৌদি আরবের ইসলামবিষয়ক, দাওয়াহ ও দিকনির্দেশনা মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে পাঁচটি শাখায় আয়োজিত এই আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় ১৩৩ দেশের মোট ৩৩৪ জন প্রতিযোগী অংশ নেন। সৌদি ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ের বিচারকদের কঠোর মূল্যায়নের মাধ্যমে কোরআন হিফজ, তিলাওয়াত, তাজবিদসহ সংশ্লিষ্ট বিষয়ে প্রতিযোগীদের যোগ্যতা যাচাই করা হয়।
পবিত্র মসজিদুল হারামে আয়োজিত বর্ণাঢ্য সমাপনী অনুষ্ঠানে সৌদি বাদশাহ সালমানের প্রতিনিধি হিসেবে প্রধান অতিথি ছিলেন মক্কা অঞ্চলের উপ-গভর্নর প্রিন্স সৌদ বিন মিশাল বিন আবদুল আজিজ। অনুষ্ঠানে বিভিন্ন শাখার সেরা ৫০ জন প্রতিযোগীর হাতে সম্মাননা ও পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়। এবারের প্রতিযোগিতায় মোট পুরস্কারের পরিমাণ ছিল ১ কোটি ২৬ লাখ সৌদি রিয়াল। এর মধ্যে প্রথম স্থান অর্জনকারী বাংলাদেশের নুরুদ্দিন জাকারিয়া পেয়েছেন ৫ লাখ সৌদি রিয়াল।
প্রতিযোগিতা চলাকালে নিজের অনুভূতি জানিয়ে হাফেজ নুরুদ্দিন জাকারিয়া বলেন, পবিত্র কোরআনই তাকে একটি ছোট গ্রাম থেকে মক্কার পবিত্র ভূমিতে নিয়ে এসেছে। মসজিদুল হারামে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের প্রতিযোগীদের সঙ্গে অংশ নেওয়াকে তিনি জীবনের অন্যতম বড় সম্মান ও স্মরণীয় অর্জন হিসেবে উল্লেখ করেন।
কোরআন হিফজের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করে নুরুদ্দিন জাকারিয়ার এই সাফল্য দেশের কোরআন শিক্ষা ও মাদরাসা শিক্ষার্থীদের জন্য নতুন অনুপ্রেরণা তৈরি করেছে। মক্কার পবিত্র ভূমিতে বাংলাদেশের লাল-সবুজ পতাকা তুলে ধরে তিনি দেশের জন্য বয়ে এনেছেন অনন্য এক গৌরব।



