সৌদি পাঠ্যবই থেকে ‘মুসলিমরা জেরুজালেম কখনো ছেড়ে দেবে না’ বাক্য বাদ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: সৌদি আরবের স্কুল পাঠ্যবই থেকে ‘মুসলিমরা কখনো জেরুজালেম ছেড়ে দেবে না’—এমন একটি বাক্য বাদ দেওয়া হয়েছে। ইসরায়েলভিত্তিক গবেষণা সংস্থা ইমপ্যাক্ট-সির এক প্রতিবেদনের বরাতে মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) এ তথ্য জানিয়েছে মিডল ইস্ট আই।
ইমপ্যাক্ট-সির জুলাইয়ের শেষ দিকে প্রকাশিত সৌদি শিক্ষাক্রমের পর্যালোচনায় বলা হয়েছে, আগের পাঠ্যবইয়ে থাকা ওই বক্তব্যটি মুসলিমদের নিয়ন্ত্রণ কিংবা জেরুজালেমে তাদের উপস্থিতি হুমকির মুখে রয়েছে—এমন ধারণা তৈরি করতে পারত। পাশাপাশি এটি জেরুজালেমকে মুসলিম ও অন্যান্য গোষ্ঠী, বিশেষ করে ইসরায়েলের মধ্যকার চলমান সংঘাতের অন্যতম কেন্দ্র হিসেবে উপস্থাপন করতে পারত বলেও দাবি করেছে সংস্থাটি।
ইমপ্যাক্ট-সি আরও জানিয়েছে, সৌদি পাঠ্যক্রমে তারা আগে যেসব বিষয়কে ইহুদিবিদ্বেষী বক্তব্য হিসেবে চিহ্নিত করেছিল, সেগুলোরও বেশিরভাগ বা সবই বাদ দেওয়া হয়েছে।
মিডল ইস্ট আইয়ের প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২৫ সালের সৌদি পাঠ্যবইয়ে কোরআন ও হাদিসের কিছু অংশ বাদ দেওয়াকেও ইমপ্যাক্ট-সি ‘ইতিবাচক পরিবর্তন’ হিসেবে উল্লেখ করেছে। বাদ পড়া অংশের মধ্যে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর এক অসুস্থ ইহুদি বালককে দেখতে যাওয়ার বহুল পরিচিত একটি হাদিসও রয়েছে।
ইমপ্যাক্ট-সির দাবি, এই উদাহরণ বাদ দেওয়ার ফলে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের প্রতি শিক্ষার্থীদের দৃষ্টিভঙ্গিতে ইতিবাচক পরিবর্তনের সুযোগ তৈরি হতে পারে। এ ছাড়া অবিশ্বাস ও পাপসংক্রান্ত কোরআনের কিছু আয়াতও সংক্ষিপ্ত করা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে ইসলামকে মানবজাতির স্বাভাবিক ধর্ম হিসেবে শিক্ষার্থীদের শেখানোর বিষয়টি নিয়ে সংস্থাটি সমালোচনা করেছে।
সৌদি পাঠ্যবইয়ের মানচিত্র ও রাজনৈতিক পরিভাষাতেও পরিবর্তন আনা হয়েছে বলে জানিয়েছে ইমপ্যাক্ট-সি। সংস্থাটির পর্যালোচনা অনুযায়ী, আগের কিছু মানচিত্রে ইসরায়েলকে আলাদাভাবে দেখানো হতো না এবং পুরো ভূখণ্ডকে ‘ফিলিস্তিন’ হিসেবে চিহ্নিত করা হতো। ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের পাঠ্যবইয়ে পুরো ভূখণ্ডের ওপর থাকা ‘ফিলিস্তিন’ শব্দটি সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। তবে নতুন মানচিত্রেও ইসরায়েলের নাম উল্লেখ করা হয়নি।
একাদশ শ্রেণির ইতিহাসের একটি বইয়ে ‘জায়নিস্ট শত্রু’ শব্দবন্ধের পরিবর্তে ‘ইসরায়েলি দখলদারত্ব’ শব্দ ব্যবহার করা হয়েছে। ইমপ্যাক্ট-সি এটিকে ইতিবাচক পরিবর্তন হিসেবে দেখলেও পুরোপুরি সন্তোষজনক নয় বলে মন্তব্য করেছে।
সংস্থাটির মতে, নতুন শব্দবন্ধে ইসরায়েলবিরোধী বক্তব্যের তীব্রতা কিছুটা কমেছে। তবে ‘ইসরায়েলি দখলদারত্ব’ শব্দটি নির্দিষ্ট কোনো ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডের পরিবর্তে পুরো ইসরায়েলকে বোঝাতে ব্যবহৃত হওয়ায় সৌদি আরবের পক্ষ থেকে ইসরায়েলকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি না দেওয়ার অবস্থানও এতে প্রতিফলিত হচ্ছে।
সৌদি পাঠ্যবইয়ে এসব পরিবর্তনের বিষয়টি এমন এক সময়ে সামনে এসেছে, যখন জেরুজালেমের আল-আকসা মসজিদকে ঘিরে ইসরায়েলি ও ফিলিস্তিনিদের মধ্যে উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ সম্প্রতি অধিকৃত পূর্ব জেরুজালেমের আল-আকসা মসজিদ প্রাঙ্গণে ইসরায়েলি বসতিস্থাপনকারীদের ইহুদি প্রার্থনার অনুমতি দিয়েছে। ফিলিস্তিনিরা এটিকে দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা ব্যবস্থার লঙ্ঘন হিসেবে দেখছে।
একই সময়ে অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে ইসরায়েলি বসতি সম্প্রসারণও অব্যাহত রয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে ইসরায়েল-ফিলিস্তিন সংঘাত ও জেরুজালেমের মর্যাদা নিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে উদ্বেগও অব্যাহত রয়েছে।
এদিকে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু প্রকাশ্যে ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করে আসছেন। তাঁর সরকারের নীতিকে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক মহলেও সমালোচনা রয়েছে।
সূত্র: মিডল ইস্ট আই



