গ্রাম বাংলাদেশবাংলা

বিয়ের আশ্বাসে শারীরিক সম্পর্ক ও তিন লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ

চেয়ারম্যানের প্রতারণা

গাইবান্ধা (ডিজিটাল) প্রতিনিধি: গাইবান্ধার সাদুল্লাপুরে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে এক প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষিকার সঙ্গে দীর্ঘদিন সম্পর্ক গড়ে তোলা, তিন লাখ টাকা নেওয়া, মারধর ও ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগ উঠেছে ইউপি চেয়ারম্যানেরর বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় আদালতে একটি অভিযোগ করেছেন শিক্ষিকা।

‎অভিযোগকারী শরিফা জিন্নাত সাদুল্লাপুর উপজেলার ছান্দিয়ার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা। তাঁর অভিযোগ, রসুলপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রবিউল ইসলাম প্রথমে তাঁর সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলেন। পরে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে প্রায় দুই বছর ধরে বিভিন্ন সময়ে তাঁর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় রাখেন।

‎শরিফা জিন্নাতের দাবি, একপর্যায়ে তিনি চেয়ারম্যানকে বিয়ের জন্য চাপ দিলে তিনি টাকা দাবি করেন। পরে ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে বিভিন্ন সময়ে চেয়ারম্যানকে মোট তিন লাখ টাকা দেন। কিন্তু টাকা নেওয়ার পর চেয়ারম্যান বিয়ের বিষয়ে নানা টালবাহানা শুরু করেন বলে অভিযোগ তাঁর।

‎শিক্ষিকার অভিযোগ, শুধু বিয়ে না করাই নয়, তাঁকে মানসিকভাবে চাপে রাখতে মোবাইলে থাকা কিছু ছবি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির মাধ্যমে সম্পাদনা করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। এমনকি পরিবারের সদস্যদের কাছেও এসব ছবি পাঠানো হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। এ ছাড়া ৩০০ টাকার একটি ফাঁকা স্ট্যাম্পে কৌশলে তাঁর স্বাক্ষর নেওয়া, ভয়ভীতি প্রদর্শন, প্রাণনাশের হুমকি এবং মারধরের অভিযোগও করেছেন ওই শিক্ষিকা।

‎শরিফা জিন্নাত আরও দাবি করেন, চেয়ারম্যানের বিয়ের আশ্বাসের ওপর বিশ্বাস করেই তিনি তাঁর আগের স্বামীর সঙ্গে বিবাহবিচ্ছেদ করেন। ওই সংসারে তাঁদের দুই সন্তান রয়েছে বলেও জানান তিনি।

‎শরিফা জিন্নাত বলেন, চেয়ারম্যানের সঙ্গে সম্পর্কের শুরু থেকে তিনি বিয়ের প্রতিশ্রুতি পেয়ে আসছিলেন। কিন্তু পরবর্তীতে বিয়ের পরিবর্তে তাঁকে নানা ধরনের চাপ ও হুমকির মুখে পড়তে হয়েছে।

‎অভিযোগের বিষয়ে গত ১৬ আগস্ট আদালতে আবেদন করেন শরিফা জিন্নাত। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, নিজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

‎বাদী পক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট রেজওয়ান সরকার বলেন, আদালতের মাধ্যমে অভিযোগের আইনগত প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। তাঁরা আশা করছেন, তদন্ত ও বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা বেরিয়ে আসবে এবং বাদী ন্যায়বিচার পাবেন।

‎এদিকে অভিযোগের বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর সোমবার স্থানীয় সাংবাদিকদের ডেকে সংবাদ সম্মেলন করেন অভিযুক্ত ইউপি চেয়ারম্যান রবিউল ইসলাম। সেখানে তিনি তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করে নিজেকে নির্দোষ দাবি করেন। তাঁর বক্তব্য, উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তাঁকে হয়রানি ও সামাজিকভাবে হেয় করতে এসব অভিযোগ করা হয়েছে।

‎অন্যদিকে, আদালতের নির্দেশে অভিযোগটি রেকর্ড করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

সাদুল্লাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ কে এম হাবিবুর রহমান জানান, অভিযোগের বিষয়ে আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারে পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে বলেও জানান তিনি।

সংশ্লিষ্ট খবর

Back to top button