বাংলাদেশ

সম্পত্তি লিখে নিয়েছেন বুয়েট কর্মকর্তা ছেলে, আদালতে শতবর্ষী মা

বাংলা টিভি ডেস্ক: বয়সের ভারে নুয়ে পড়েছেন রহিমা খাতুন ওরফে মনোয়ারা রেফুল। বয়স প্রায় ১০০ বছর। ঠিকমতো চলাফেরাও করতে পারেন না। জীবনের শেষ প্রান্তে এসে ছোট ছেলে ইসমাইল হোসেনকে নিয়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জের বালিয়াডাঙ্গা মাঝপাড়ার একটি জরাজীর্ণ ঘরে দিন কাটছে তাঁর। তবে এই বয়সেও নিজের বসতভিটা ও সম্পত্তির অধিকার ফিরে পেতে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন তিনি।

রহিমা খাতুনের অভিযোগ, জমি নিয়ে মামলা চলছে—এমন কথা বলে তাঁর ও তাঁর স্বামীর টিপসই নেওয়া হয়েছিল। পরে সেই টিপসই ব্যবহার করে প্রায় ১২ বিঘা কৃষিজমি, আমবাগান ও বসতভিটাসহ পারিবারিক সম্পত্তি বড় ছেলে মো. মুখতারুজ্জামান নিজের নামে লিখে নিয়েছেন।

অভিযুক্ত মুখতারুজ্জামান বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) সিনিয়র টেকনিক্যাল অফিসার হিসেবে কর্মরত। সম্পত্তি নিজের নামে নেওয়ার পাশাপাশি পৈতৃক বাড়ি থেকে মা ও ছোট ভাইকে চলে যাওয়ার জন্য চাপ দেওয়া এবং জরাজীর্ণ ঘরটি মেরামতেও বাধা দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে।

সম্পত্তির অধিকার ও বসতভিটা রক্ষার দাবিতে গত ৩১ আগস্ট চাঁপাইনবাবগঞ্জের যুগ্ম জেলা জজ প্রথম আদালতে বড় ছেলে মুখতারুজ্জামানের বিরুদ্ধে মামলা করেন রহিমা খাতুন। তিনি বালিয়াডাঙ্গা মাঝপাড়া গ্রামের মৃত এসলাম হোসেনের স্ত্রী।

মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, মুখতারুজ্জামান তাঁর বাবাকে বিভিন্ন তথ্য দিয়ে রেজিস্ট্রি অফিসে নিয়ে যান এবং টিপসইয়ের মাধ্যমে জমি নিজের নামে লিখে নেন। পরে একইভাবে মায়ের কাছ থেকেও টিপসই নেওয়া হয়। বাবা-মাকে বলা হয়েছিল, জমি নিয়ে মামলা চলায় কিছু কাগজপত্রে টিপসই প্রয়োজন। পরে তারা জানতে পারেন, ওই টিপসই ব্যবহার করেই তাদের সম্পত্তি ছেলের নামে রেজিস্ট্রি করা হয়েছে।

রহিমা খাতুনের দাবি, তিনি স্বেচ্ছায় তাঁর কোনো সম্পত্তি ছেলের নামে লিখে দেননি।

বর্তমানে যে বাড়িতে তিনি ছোট ছেলে ইসমাইলকে নিয়ে থাকেন, সেটির অবস্থাও অত্যন্ত নাজুক। ঘরের টিনের চাল ফুটো হয়ে যাওয়ায় বৃষ্টির সময় পানি ভেতরে পড়ে। দেয়ালের বিভিন্ন স্থানে ফাটল দেখা দিয়েছে এবং কাঠের অংশেও ঘুণ ধরেছে। ঘরটি মেরামতের উদ্যোগ নিলেও বড় ছেলে তাতে বাধা দিচ্ছেন বলে অভিযোগ করেছেন তিনি।

শতবর্ষী রহিমা খাতুন বলেন, সম্পত্তি নিজের নামে নেওয়ার পর তাঁকে ও ছোট ছেলে ইসমাইলকে পৈতৃক বাড়ি ছেড়ে দেওয়ার জন্য চাপ দেওয়া হচ্ছে। সমস্যা সমাধানে স্থানীয়ভাবে একাধিকবার সালিশ হয়েছে। থানায় অভিযোগ এবং জেলা লিগ্যাল এইডের সহায়তাও চাওয়া হয়েছে। তবে এত কিছুর পরও কোনো সমাধান হয়নি বলে দাবি তাঁর।

ছোট ছেলে ইসমাইল হোসেনের দাবি, তাঁদের বাবা-মায়ের প্রায় ১২ বিঘা ধান ও আমের জমির পাশাপাশি বসতভিটাও রয়েছে। এসব সম্পত্তি বড় ভাই মুখতারুজ্জামানের নামে লিখে নেওয়া হয়েছে। মায়ের দেখাশোনাও তিনি করেন। অথচ বাড়িটি বসবাসের অনুপযোগী হয়ে পড়লেও সেটি সংস্কার করতে দেওয়া হচ্ছে না।

পরিবারের আরও দুই সদস্য আলিম হোসেন ও খাইরুল হোসেনও একই ধরনের অভিযোগ করেছেন। তাঁদের দাবি, সাত ভাই-বোনের মধ্যে ছয়জনই পারিবারিক সম্পত্তির অংশ থেকে বঞ্চিত হয়েছেন।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে মো. মুখতারুজ্জামানের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। রাত ৯টা পর্যন্ত তাঁর মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।

এদিকে সম্পত্তি নিয়ে করা মামলাটি বর্তমানে আদালতে বিচারাধীন। আর শতবর্ষী রহিমা খাতুন ছোট ছেলেকে সঙ্গে নিয়ে সেই জরাজীর্ণ পৈতৃক বাড়িতেই বসবাস করছেন।

সংশ্লিষ্ট খবর

Back to top button