বাংলাদেশ

প্রেমিকাকে মোবাইল কিনে দিতে অপহরণের নাটক, পুলিশের তদন্তে ধরা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী

বগুড়া প্রতিনিধি: প্রেমিকাকে নতুন মোবাইল ফোন কিনে দেওয়ার টাকা জোগাড় করতে নিজের অপহরণের নাটক সাজিয়েছিলেন বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থী। পরিবারের কাছে পাঁচ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবির এ ঘটনায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি হলেও তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করে বগুড়ার দুপচাঁচিয়া থানা পুলিশ।

ঘটনাটি ঘটে গত ২৮ জুলাই। অভিযুক্ত শিক্ষার্থী মো. সাব্বির হোসেন (২২) দুপচাঁচিয়া উপজেলার পলিমহেশপুর গ্রামের মো. সিদ্দিকুর রহমানের ছেলে এবং বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের বিবিএ বিভাগের তৃতীয় সেমিস্টারের শিক্ষার্থী।

পুলিশ ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, ২৮ জুলাই বিকেলে বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর সাব্বির আর ফিরে আসেননি। ওই দিন রাত ৮টার দিকে তার বাবা দুপচাঁচিয়া থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। তিনি অভিযোগ করেন, একটি ব্রিলিয়ান্ট (আইপি) নম্বর থেকে ফোন করে তার ছেলেকে মারধরের শব্দ শোনানো হয় এবং তাকে জীবিত ফেরত পেতে পাঁচ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়।

জিডির পরপরই দুপচাঁচিয়া থানা পুলিশের একটি বিশেষ দল তদন্ত শুরু করে। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় সাব্বিরের অবস্থান শনাক্ত করে রাজশাহীতে অভিযান চালানো হয়। সেখানে গিয়ে পুলিশ দেখতে পায়, তিনি কোনো অপহরণকারীর কবলে নন; বরং নিজেই আত্মগোপনে রয়েছেন।
পরে তাকে উদ্ধার করে থানায় এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তিনি অপহরণের নাটক সাজানোর কথা স্বীকার করেন। পুলিশকে তিনি জানান, প্রেমিকাকে নতুন মোবাইল ফোন উপহার দেওয়ার জন্য অর্থের প্রয়োজন ছিল। সেই উদ্দেশ্যে ব্রিলিয়ান্ট অ্যাপের নম্বর ব্যবহার করে নিজেই বাবার কাছে ফোন দেন, মারধরের অভিনয় করে পাঁচ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করেন।

দুপচাঁচিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তাজমিলুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সাব্বির অপহরণের নাটক সাজানোর বিষয়টি স্বীকার করেছেন। তিনি নিজের ভুল বুঝতে পেরেছেন এবং এ ঘটনায় পরিবারকে চরম মানসিক উদ্বেগে ফেলেছেন। মানবিক দিক বিবেচনায় প্রয়োজনীয় কাউন্সেলিং শেষে তাকে তার বাবার জিম্মায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, প্রযুক্তিনির্ভর তদন্তের মাধ্যমে দ্রুত ঘটনার রহস্য উদঘাটন হওয়ায় একটি ভুয়া অপহরণের ঘটনা বড় ধরনের অপরাধে রূপ নেওয়ার আগেই সমাধান করা সম্ভব হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট খবর

Back to top button