দুই হাত নেই, মুখে কলম ধরে দাখিলে উত্তীর্ণ রিয়াদ

বাংলা টিভি ডেস্ক: দুই হাত নেই, কিন্তু স্বপ্ন থেমে নেই। অদম্য ইচ্ছাশক্তি, আত্মবিশ্বাস আর কঠোর পরিশ্রমকে শক্তি করে মুখে কলম ধরে লিখে ২০২৬ সালের দাখিল পরীক্ষায় সফলভাবে উত্তীর্ণ হয়েছে নওগাঁর নিয়ামতপুর উপজেলার বালিচাঁদ গ্রামের রিয়াদ হোসেন। তার এই সাফল্য শারীরিক প্রতিবন্ধকতাকে জয় করার অনন্য দৃষ্টান্ত হয়ে উঠেছে।
রিয়াদ হোসেন বালিচাঁদ গ্রামের মো. আইনাল হোসেনের ছেলে। জন্ম থেকেই দুই হাত না থাকায় ছোটবেলা থেকেই নানা প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে বেড়ে উঠতে হয়েছে তাকে। তবে শারীরিক সীমাবদ্ধতাকে কখনোই নিজের স্বপ্নের পথে বাধা হতে দেননি রিয়াদ।
হাতের বদলে মুখে কলম ধরে নিয়মিত লেখাপড়া চালিয়ে গেছে সে। প্রতিকূলতার মধ্যেও দীর্ঘদিনের অধ্যবসায়, কঠোর পরিশ্রম ও আত্মবিশ্বাসের ফলে এবারের দাখিল পরীক্ষায় কাঙ্ক্ষিত সাফল্য অর্জন করেছে রিয়াদ।
রিয়াদের সহপাঠীরা জানায়, শারীরিক প্রতিবন্ধকতা থাকলেও পড়াশোনার প্রতি তার আগ্রহ ছিল সবসময়ই প্রবল। লেখাপড়া নিয়ে তার রয়েছে বড় স্বপ্ন। ভবিষ্যতে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করে একজন আদর্শ শিক্ষক হতে চায় সে।
রিয়াদ জানায়, শুধু নিজে প্রতিষ্ঠিত হওয়াই তার লক্ষ্য নয়। নিজের মতো শারীরিক প্রতিবন্ধী ও সুবিধাবঞ্চিত শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়াতে চায় সে। পাশাপাশি সমাজে শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দিতে কাজ করার ইচ্ছাও রয়েছে তার।
বালিচাঁদ দারুল দাখিল মাদ্রাসার ভারপ্রাপ্ত সুপার নুরুল ইসলাম বলেন, রিয়াদ শারীরিকভাবে প্রতিবন্ধী হলেও লেখাপড়ায় অত্যন্ত মনোযোগী। মুখে কলম ধরে লিখেই সে এবারের দাখিল পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছে। ভবিষ্যতে সে যেন তার স্বপ্ন পূরণ করতে পারে, সে জন্য আমরা তার সর্বাঙ্গীণ মঙ্গল কামনা করি।
নিয়ামতপুর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আল মামুন ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোছা. মুর্শিদা খাতুন বলেন, শারীরিক প্রতিবন্ধকতাকে জয় করে মুখে লিখে রিয়াদের দাখিল পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার ঘটনা অত্যন্ত প্রশংসনীয়। ভবিষ্যতে সে একজন আদর্শ শিক্ষক হয়ে সমাজে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে—এটাই তাদের প্রত্যাশা।
রিয়াদের এই সাফল্য আবারও দেখিয়ে দিল, শারীরিক সীমাবদ্ধতা স্বপ্নপূরণের পথে চূড়ান্ত বাধা নয়। প্রবল ইচ্ছাশক্তি, আত্মবিশ্বাস ও পরিশ্রম থাকলে প্রতিকূলতাকেও জয় করে এগিয়ে যাওয়া সম্ভব।



