বাংলাদেশ

চাকরির প্রলোভনে দুই বোনকে ভারতে পাচার, আসামির ১০ বছর কারাদণ্ড

‎ফরিদপুর  প্রতিনিধি: ফরিদপুরে ভালো চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে দুই বোনকে ভারতের বোম্বেতে পাচার করে অনৈতিক কাজে বাধ্য করার মামলায় মো. শহীদ শেখ নামে এক ব্যক্তিকে ১০ বছর করে কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে অর্থদণ্ডও দেওয়া হয়েছে।

ঘটনার প্রায় ১৫ বছর পর সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) দুপুরে এ মামলার রায় ঘোষণা করা হয়। ২০১১ সালে ওই দুই তরুণীকে ভারতে পাচারের অভিযোগে মামলাটি করা হয়েছিল।

দুপুর দেড়টার দিকে ফরিদপুরের মানব পাচার ও অভিবাসী চোরাচালান প্রতিরোধ ও দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক জেলা ও দায়রা জজ শামীমা পারভীন রায় ঘোষণা করেন।

দণ্ডপ্রাপ্ত শহীদ শেখ (৫০) ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলার গজারকান্দি গ্রামের বাসিন্দা। তবে রায় ঘোষণার সময় তিনি আদালতে উপস্থিত ছিলেন না। রায়ের পর তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, মানব পাচার ও অভিবাসী চোরাচালান প্রতিরোধ ও দমন আইনের ৬ ধারায় শহীদকে দোষী সাব্যস্ত করে ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানার অর্থ পরিশোধে ব্যর্থ হলে তাকে আরও তিন বছর বিনাশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।

একই আইনের ১০ ধারায় শোষণের উদ্দেশ্যে অপহরণের অপরাধেও তাকে ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড এবং ২০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এই জরিমানাও অনাদায়ে আরও তিন বছর বিনাশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়।

আদালত জানিয়েছে, দুই ধারায় দেওয়া কারাদণ্ড একসঙ্গে ভোগ করতে পারবেন শহীদ। তবে দুই ধারার অর্থদণ্ড আলাদাভাবে পরিশোধ করতে হবে। জরিমানা না দিলে সংশ্লিষ্ট কারাদণ্ডও পৃথকভাবে ভোগ করতে হবে।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২০ ও ১৮ বছর বয়সী ওই দুই বোন ফরিদপুরের একটি জুট মিলে কাজ করতেন। ২০১১ সালের ২৯ জুলাই একই প্রতিষ্ঠানের সহকর্মী শহীদ শেখ তাদের উন্নত চাকরির প্রস্তাব দেন। পরে চাকরির কথা বলে তাদের ভারতের বোম্বে শহরে নিয়ে গিয়ে অনৈতিক কাজে বাধ্য করা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।

এ ঘটনায় দুই তরুণীর বাবা ২০১১ সালের ১৩ আগস্ট সালথা থানায় মামলা করেন। মামলায় শহীদ শেখ ও তার স্ত্রীকে আসামি করা হয়।

পরে ২০১১ সালের ৩১ অক্টোবর সালথা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) ওমর আলী তদন্ত শেষে শহীদ শেখ ও তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।

আদালতের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) গোলাম রব্বানী ভূঁইয়া রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, শহীদ শেখকে দোষী সাব্যস্ত করে কারাদণ্ড দেওয়া হলেও তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত না হওয়ায় আদালত তাকে খালাস দিয়েছেন।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী জানান, রায়ে তারা সন্তুষ্ট। মানব পাচারের মতো অপরাধ দমনে এ ধরনের রায় ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।

সংশ্লিষ্ট খবর

Back to top button