বিনোদনটলিউড

অভিনেত্রী নাসিমা খান মারা গেছেন

বিনোদন ডেস্ক: বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের শুরুর দিকের পরিচিত মুখ, ষাটের দশকের অভিনেত্রী নাসিমা খান আর নেই। আজ সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে রাজধানীর উত্তরার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। তাঁর মৃত্যুর খবরটি নিশ্চিত করেছেন চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির সাংগঠনিক সম্পাদক ও অভিনেতা সনি রহমান।

নাসিমা খান ছিলেন বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের প্রাথমিক সময়ের অন্যতম অভিনেত্রী। ষাটের দশকে অভিনয়জগতে পথচলা শুরু করে বাংলা ও উর্দু—দুই ভাষার সিনেমায় নিজের প্রতিভার স্বাক্ষর রেখেছেন তিনি। দীর্ঘ অভিনয়জীবনে নানা চরিত্রে অভিনয়ের মাধ্যমে দর্শকদের কাছে পরিচিতি লাভ করেন এই অভিনেত্রী।

১৯৪৪ সালের ৬ আগস্ট পুরান ঢাকার লালবাগে জন্মগ্রহণ করেন নাসিমা খান। তাঁর পৈতৃক বাড়ি মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগর উপজেলার রাঢ়িখাল গ্রামের উকিলবাড়িতে। তাঁর বাবা মোহাম্মদ মাসুদ খান। তাঁর দাদা খান বাহাদুর আবদুল জলিল ব্রিটিশ ভারতের ঢাকার ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট ছিলেন। ১৯৪০-এর দশকে তাঁদের পরিবার লালবাগে বাড়ি নির্মাণ করে সেখানেই বসবাস শুরু করে।

অভিনেতা আনিসের হাত ধরেই চলচ্চিত্রে আসার সুযোগ পান নাসিমা খান। সে সময় ঢাকার চলচ্চিত্রে সুলতানা জামান, রওশন আরা, সুমিতা দেবী ও চিত্রা সিনহার মতো অভিনেত্রীরা ছিলেন বেশ পরিচিত।

১৯৫৯ সালে এ জে কারদারের পরিচালনায় ‘জাগো হুয়া সাভেরা’ সিনেমার মাধ্যমে বড় পর্দায় অভিষেক হয় তাঁর। ঢাকার দ্বিতীয় সবাক চলচ্চিত্র হিসেবে পরিচিত এই সিনেমায় সহনায়িকাদের একজন ছিলেন নাসিমা খান। সিনেমাটি আন্তর্জাতিক পরিসরেও পুরস্কার অর্জন করে। একই বছর বেবী ইসলাম পরিচালিত উর্দু সিনেমা ‘তানহা’য় অভিনয় করেন তিনি। এতে তাঁর সহশিল্পী ছিলেন শবনম, সুমিতা দেবী ও লাহোরের অভিনেত্রী শামীম আরা।

১৯৬১ সালে মুক্তি পাওয়া ‘যে নদী মরু পথে’ সিনেমায় নায়িকা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন নাসিমা খান। ছবিটিতে তাঁর বিপরীতে অভিনয় করেন আনিস। এরপর একের পর এক চলচ্চিত্রে অভিনয়ের মধ্য দিয়ে নিজের অবস্থান আরও দৃঢ় করেন তিনি।

তাঁর অভিনীত উল্লেখযোগ্য সিনেমার মধ্যে রয়েছে ‘সূর্যস্নান’, ‘ধারাপাত’, ‘কার বউ’, ‘উজালা’, ‘বেগানা’, ‘আপন দুলাল’, ‘উলঝন’, ‘ম্যায় ভি ইনসান হু’, ‘দুই ভাই’, ‘গৌরী’, ‘আমার বৌ’ ও ‘ঢেউয়ের পরে ঢেউ’।

নাসিমা খানের মৃত্যুতে বাংলাদেশের চলচ্চিত্র অঙ্গনে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। তাঁর অভিনয় ও চলচ্চিত্রে অবদান বাংলা সিনেমার ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।

সংশ্লিষ্ট খবর

Back to top button