বাংলাদেশ

১০ মিনিটের জন্য নেওয়া মোটরসাইকেল ফেরত চাইতে গিয়ে প্রাণ গেল ব্যবসায়ীর

বাংলা টিভি ডেস্ক: লক্ষ্মীপুরে ধার নেওয়া মোটরসাইকেল ফেরত চাওয়াকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ ও মারধরের ঘটনায় হোসেন মিয়া (৫০) নামে এক ব্যবসায়ীর মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় তাঁর ছেলে পল্লী চিকিৎসক সাইফুল ইসলামও আহত হয়েছেন। শাকিল হোসেন ও তাঁর সহযোগীদের বিরুদ্ধে হামলার অভিযোগ তুলেছেন সাইফুল।

রোববার (১ নভেম্বর) রাতে সদর উপজেলার উত্তর হামছাদী ইউনিয়নের কাজিরদিঘীরপাড় বাজারে এ ঘটনা ঘটে।

নিহতের পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ১৯ অক্টোবর মাত্র ১০ মিনিটের জন্য সাইফুল ইসলামের কাছ থেকে মোটরসাইকেল নেন একই এলাকার শাকিল হোসেন। কিন্তু ১৩ দিন পার হলেও সেটি ফেরত দেওয়া হয়নি। এ নিয়ে একাধিকবার যোগাযোগ করেও সমাধান না হওয়ায় বিষয়টি নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ তৈরি হয়।

পরবর্তী সময়ে মোটরসাইকেল ফেরত দেওয়ার বিষয়ে বাজারের একটি দোকানে আলোচনায় বসার কথা ছিল। তবে শাকিল বৈঠকে রাজি না হওয়ায় সাইফুল, তাঁর বাবা হোসেন মিয়া ও অন্যদের সঙ্গে কথা-কাটাকাটি শুরু হয়। একপর্যায়ে শাকিল ও বিপ্লব নামে দুজন হোসেন মিয়াকে মারধর করেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে হাসপাতালে নেওয়ার পথে তাঁর মৃত্যু হয়। এ সময় সাইফুলও মারধরের শিকার হন।

নিহত হোসেন মিয়া কাজিরদিঘীরপাড় এলাকার সুলতান আহমেদ ভূঁইয়ার ছেলে। তিনি স্থানীয় বাজারে টেইলার্সের ব্যবসা করতেন। পরিবারের তথ্য অনুযায়ী, তিনি আগে থেকেই হৃদরোগে আক্রান্ত ছিলেন।

আহত সাইফুল ইসলাম অভিযোগ করে বলেন, ১০ মিনিটের কথা বলে তাঁর কাছ থেকে মোটরসাইকেল নেওয়া হলেও তা ফেরত দেওয়া হচ্ছিল না। পরে গাড়ি ফেরত দেওয়ার কথা বলে তাঁদের ডাকা হয়। সেখানে তাঁর বাবার বুকে ও নাকে আঘাত করা হয়। এতে তাঁর বাবার মৃত্যু হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও জড়িতদের বিচার দাবি করেছেন সাইফুল।

এ বিষয়ে সদর হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার জহুরুল ইসলাম রনি জানান, হোসেন মিয়াকে হাসপাতালে আনার আগেই তাঁর মৃত্যু হয়েছিল। ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হওয়ার পর চূড়ান্ত প্রতিবেদন পাওয়া গেলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে।

লক্ষ্মীপুর সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ওয়াহিদ পারভেজ জানান, নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য সদর হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে। এ ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতিও চলছে।

সংশ্লিষ্ট খবর

Back to top button