আন্তর্জাতিক

পুরুষদের জন্যও আসছে জন্মনিয়ন্ত্রণ পিল, পুরুষত্বে প্রভাব না পড়ার দাবি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: পরিবার পরিকল্পনার ক্ষেত্রে এতদিন জন্মনিয়ন্ত্রণের প্রধান দায়িত্ব নারীদের ওপরই বেশি নির্ভরশীল ছিল। তবে এবার সেই চিত্রে পরিবর্তন আসার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। পুরুষদের জন্য হরমোনবিহীন জন্মনিয়ন্ত্রণের একটি নতুন বড়ি নিয়ে গবেষণা করছেন যুক্তরাষ্ট্রের বিজ্ঞানীরা। তাঁদের দাবি, ওষুধটি সফল হলে কনডম বা স্থায়ী পদ্ধতির বাইরে পুরুষদের জন্য নতুন একটি বিকল্প তৈরি হবে।

যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েল কর্নেল মেডিসিনের গবেষকদের উদ্ভাবিত এই পরীক্ষামূলক ওষুধটির নাম নিয়ে ইতোমধ্যে আলোচনা শুরু হয়েছে। গবেষকদের তথ্য অনুযায়ী, বড়িটি সেবনের প্রায় ৩০ মিনিটের মধ্যে শুক্রাণুর চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যেতে পারে। ফলে শুক্রাণুর পক্ষে ডিম্বাণু পর্যন্ত পৌঁছানো কঠিন হবে।

যেভাবে কাজ করবে নতুন এই ওষুধ

নারীদের প্রচলিত জন্মনিয়ন্ত্রণ বড়ির মতো প্রতিদিন এটি সেবনের প্রয়োজন হবে না। গবেষণায় প্রস্তাবিত পদ্ধতি অনুযায়ী, যৌনমিলনের আগে নির্দিষ্ট সময়ে বড়িটি গ্রহণ করতে হবে। এর প্রভাব কয়েক ঘণ্টা স্থায়ী হওয়ার কথা।

গবেষকদের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, ওষুধটি শুক্রাণুর চলাচল নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ একটি প্রোটিনের কার্যক্রমে সাময়িক বাধা সৃষ্টি করে। এর ফলে শুক্রাণু ডিম্বাণুর দিকে স্বাভাবিক গতিতে এগোতে পারে না। অর্থাৎ শুক্রাণু উৎপাদন বন্ধ না করেই সাময়িকভাবে তার গতিশীলতা নিয়ন্ত্রণ করাই এই ওষুধের মূল উদ্দেশ্য।

পুরুষের হরমোন ও প্রজননক্ষমতায় প্রভাব কেমন?

এই ওষুধের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো, এটি হরমোননির্ভর পদ্ধতি নয়। গবেষকদের ধারণা, এর ফলে টেস্টোস্টেরন হরমোন বা শুক্রাণু উৎপাদনে সরাসরি প্রভাব পড়বে না। ওষুধের কার্যকারিতা শেষ হলে শুক্রাণুর স্বাভাবিক চলাচলও ফিরে আসার কথা।

তবে দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তা, সম্ভাব্য পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া এবং প্রজননক্ষমতার ওপর প্রভাব সম্পর্কে নিশ্চিত হতে আরও পরীক্ষা-নিরীক্ষার প্রয়োজন রয়েছে।

কতটা কার্যকর এবং কবে বাজারে আসবে?

নতুন এই ওষুধ নিয়ে প্রাণীর ওপর পরিচালিত প্রাথমিক গবেষণায় আশাব্যঞ্জক ফল পাওয়া গেছে। তবে মানুষের ক্ষেত্রে এর কার্যকারিতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পর্যাপ্ত ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল প্রয়োজন।

গবেষণাটি সফল হলে পুরুষদের জন্মনিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলতে পারে। বিশেষ করে পরিবার পরিকল্পনার দায়িত্ব নারী-পুরুষের মধ্যে আরও সমানভাবে ভাগ করে নেওয়ার সুযোগ তৈরি হতে পারে।

তবে এখনই ওষুধটিকে শতভাগ কার্যকর বা সম্পূর্ণ নিরাপদ বলা যাচ্ছে না। এটি সাধারণ মানুষের ব্যবহারের জন্য কবে অনুমোদন পাবে, তা নির্ভর করছে পরবর্তী গবেষণা ও পরীক্ষার ফলাফলের ওপর।

সংশ্লিষ্ট খবর

Back to top button