বিগত সময়ে স্বাস্থ্যখাত সবচেয়ে বেশি ঝুঁকির মধ্যে ছিল: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

মাদারীপুর প্রতিনিধি: বিগত ১৭ বছরের ফ্যাসিষ্ট সরকারের আমলেই স্বাস্থ্যখাত সবচেয়ে বেশি ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে বলে মন্তব্য করেছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। তিনি বলেছেন, ওই সময়ে প্রতিটি মন্ত্রণালয় ও বাজেটের জনগণের টাকা লুটপাট করে বিদেশে পাচার করা হয়েছে। স্বাস্থ্যখাতে জনবল, ভ্যাকসিন ও ওষুধের কোনো বালাই ছিল না, বিগত সরকার এ নিয়ে কখনো কোনো খোঁজ নেয়নি।
মঙ্গলবার সকালে মাদারীপুরের কালকিনি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স আকস্মিক পরিদর্শনে এসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।
হাসপাতালের ইতিহাস তুলে ধরে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, “মরহুম রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সময়ে হাসপাতালগুলোকে ১৯ শয্যা করা হয়েছিল এবং দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া সেগুলোকে ৫০ শয্যায় রূপান্তর করেন। দুঃখের বিষয় হলো, এরপর আর কেউ এগুলোর শয্যা সংখ্যা বৃদ্ধি বা সেবার মান উন্নয়ন করেনি। তবে বর্তমান সরকারের নির্দেশনায় আমরা দেশের সকল উপজেলা হাসপাতালকে ১৫১ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালে রূপান্তর করার কাজ শুরু করেছি। এছাড়া ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও কমিউনিটি ক্লিনিকগুলোর সেবা বাড়াতেও বহুমুখী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।”
বিগত স্বৈরাচার সরকারের রেখে যাওয়া অব্যবস্থাপনা ও সংকটের কথা উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, “তাদের লুটপাটের কারণে আমরা আশানুরূপ বাজেট পাইনি। তবে যতটুকু বাজেট পেয়েছি, তা দিয়েই সম্পূর্ণ দুর্নীতিমুক্ত উপায়ে এবং পূর্বের চেয়ে অনেক কম খরচে কাজগুলো সম্পন্ন করছি।”
সকালে কালকিনি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পরিদর্শনের সময় মন্ত্রী হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ড ঘুরে দেখেন এবং ভর্তি রোগীদের চিকিৎসার খোঁজখবর নেন। এ সময় চিকিৎসাসেবা ও হাসপাতালের সার্বিক শৃঙ্খলা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে কঠোর পদক্ষেপ নেন তিনি।
অব্যবস্থাপনা ও দায়িত্বে অবহেলার দায়ে দুই নার্সকে তাৎক্ষণিকভাবে স্ট্যান্ড রিলিজের নির্দেশ দেওয়া হয়। পাশাপাশি, কর্মস্থলে দেরিতে উপস্থিত হওয়ার কারণে কয়েকজন চিকিৎসকের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।
স্বাস্থ্যখাতের বর্তমান পদক্ষেপের বিষয়ে মন্ত্রী জানান, ইতোমধ্যে ২৫ হাজার মিডওয়াইফ নেওয়া হয়েছে, আড়াই হাজার নার্স নিয়োগ দেওয়া হয়েছে এবং ৫০০ চিকিৎসক নতুনভাবে যোগদান করেছেন। পর্যায়ক্রমে ভ্যাকসিন, ওষুধসহ সব চিকিৎসা সরঞ্জামের সংকটও সমাধান করা হবে বলে আশ্বস্ত করেন তিনি।



