রাজনীতি

আমির হামজার নারীঘটিত ব্যাপার জামায়াত আমিরও জানেন: রাশেদ খান

বাংলা টিভি ডেস্ক: জামায়াতে ইসলামীর নেতাদের বিরুদ্ধে নারী কেলেঙ্কারিসহ বিভিন্ন অভিযোগ তুলে দলটির কঠোর সমালোচনা করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খান। তিনি বলেছেন, জামায়াতের হাতে বাংলাদেশের নারীরা নিরাপদ নন।

শুক্রবার (৬ নভেম্বর) ঝিনাইদহ জেলা শহরের একটি মসজিদে জুমার নামাজ আদায় শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন তিনি।

কুষ্টিয়া-৩ আসনের জামায়াত দলীয় সংসদ সদস্য মুফতি আমির হামজাকে নিয়ে সমালোচনা করে রাশেদ খান বলেন, ওয়াজের মঞ্চে শত লোকের শাসন ও ন্যায়নীতির কথা বলা একজন ব্যক্তির বিরুদ্ধে নারীসংক্রান্ত অভিযোগ ওঠা গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। এ কারণে আমির হামজাকে দল থেকে বহিষ্কারের পাশাপাশি তাঁর সংসদ সদস্য পদ বাতিলের আবেদন জানাতে জামায়াতের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

আমির হামজার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ সম্পর্কে জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমানও অবগত বলে দাবি করেন রাশেদ খান। তাঁর ভাষ্য, জামায়াতের শীর্ষ নেতারা বিষয়টি জানতেন এবং এ নিয়ে দলটির মগবাজারের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আলোচনাও হয়েছিল। তা সত্ত্বেও উপযুক্ত প্রার্থী না থাকায় আমির হামজাকে মনোনয়ন দেওয়া হয়।

জামায়াতের আরও কয়েকজন নেতার প্রসঙ্গ টেনে রাশেদ খান বলেন, মিয়া গোলাম পরওয়ারের সঙ্গে ভারতীয় গোয়েন্দা কর্মকর্তার বৈঠকের বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছিল। একইভাবে গাজী নজরুলের ঘটনাও প্রথম দিকে আড়াল করার চেষ্টা হয় বলে তিনি অভিযোগ করেন।

তিনি আরও বলেন, জামায়াতের নেতাদের বিরুদ্ধে কোনো অপরাধের অভিযোগ উঠলে গণমাধ্যমে প্রমাণ প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত দলটির আমির অভিযুক্তদের রক্ষার চেষ্টা করেন। একের পর এক নারী কেলেঙ্কারির অভিযোগ দলটির ভাবমূর্তিকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

এ সময় মেজর আক্তার প্রসঙ্গেও কথা বলেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী। তিনি অভিযোগ করেন, ফেস দ্য পিপল-এর একটি টকশোতে মেজর আক্তার তাঁকে এবং আন্দোলনকারীদের রাজাকারের সন্তান বলে মন্তব্য করেছিলেন। বর্তমানে ওই ব্যক্তি জামায়াতের নেতা হয়েছেন বলে দাবি করেন রাশেদ খান। এমনকি ছাত্রীশিবিরের নেত্রীদের তাঁর সঙ্গে ছবি তুলতেও দেখা গেছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

চিত্রনায়িকা পরীমনিকে ঘিরে সাম্প্রতিক ঘটনা এবং সমকালের প্রতিবেদক রবিউল ইসলাম রাজুর প্রসঙ্গেও বক্তব্য দেন রাশেদ খান। রাজুর সঙ্গে ঘটে যাওয়া ঘটনার নিন্দা জানিয়ে তিনি বলেন, এ ঘটনায় দায়ীদের বিরুদ্ধে বিচার নিশ্চিত করতে হবে। তাঁর মতে, কিছু তারকা সমাজকে কলুষিত ও বিপথগামী করছেন।

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েও কথা বলেন তিনি। রাশেদ খান বলেন, কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের ফ্যাসিবাদী শাসন টিকিয়ে রাখতে যারা গুম, খুন, ক্রসফায়ারসহ বিভিন্ন অন্যায়ের সঙ্গে জড়িত ছিলেন, তাদের আইনের আওতায় আনতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

তিনি জানান, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ও এ ধরনের অভিযোগে অনেককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তদন্তে যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যাবে, তাদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সংশ্লিষ্ট খবর

Back to top button