বাংলাদেশ

হিমালয় থেকে উড়ে আসা বিরল প্রজাতির শকুন রাজারহাটে

বাংলা টিভি ডেস্ক: হিমালয়ের দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চল থেকে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে কুড়িগ্রামের রাজারহাটে লোকালয়ে আশ্রয় নিয়েছিল একটি হিমালয়ান গৃধিনী শকুন। স্থানীয়দের হাতে আটকে পড়া শকুনটির খবর পেয়ে উদ্ধার অভিযানে নামে বন বিভাগ। পরে সেটিকে উদ্ধার করে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও পরিচর্যার ব্যবস্থা করা হয়েছে।

শারীরিক পরীক্ষা, চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের জন্য আগামী রোববার (৮ নভেম্বর) শকুনটিকে দিনাজপুরের বীরগঞ্জ উপজেলার সিংড়া ফরেস্টের উদ্ধারকেন্দ্রে পাঠানো হবে। সেখানে সুস্থ হয়ে উঠলে আবারও প্রাকৃতিক পরিবেশে অবমুক্ত করা হবে।

বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) বিকেল ৪টার দিকে রাজারহাট সদর ইউনিয়নের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পেছনে হরিশ্বর তালুক এলাকা থেকে শকুনটি উদ্ধার করা হয়।

স্থানীয়দের কাছ থেকে খবর পেয়ে সেখানে পৌঁছান রাজারহাট বন বিভাগের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আরিফুল ইসলাম। পরে তিনি শকুনটিকে উদ্ধার করে কুড়িগ্রাম বন বিভাগে নিয়ে যান।

মো. আরিফুল ইসলাম জানান, স্থানীয়দের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে হরিশ্বর তালুক এলাকা থেকে শকুনটি উদ্ধার করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে এটি হিমালয়ান গৃধিনী প্রজাতির বলে শনাক্ত করা হয়েছে। শীতকালে হিমালয় অঞ্চল থেকে এ ধরনের কিছু শকুন বাংলাদেশে আসে। উদ্ধার করা পাখিটির শারীরিক অবস্থা পর্যবেক্ষণ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

কুড়িগ্রাম বন বিভাগের কর্মকর্তা সাদিকুর রহমান জানান, বন বিভাগে নেওয়ার পর শকুনটির শারীরিক অবস্থা পরীক্ষা করা হয়। প্রয়োজনীয় চিকিৎসা, পরিচর্যা ও সংরক্ষণের জন্য বৃহস্পতিবার বিকেল ৫টার দিকে এটিকে রংপুর বিভাগীয় বন কর্মকর্তার কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে।

তিনি আরও জানান, আগামী রোববার শকুনটিকে দিনাজপুরের বীরগঞ্জ উপজেলার সিংড়া ফরেস্টের উদ্ধারকেন্দ্রে স্থানান্তর করা হবে। সেখানে বিশেষ পরিচর্যা ও চিকিৎসার মাধ্যমে সুস্থ করে তোলার পর উপযুক্ত পরিবেশে আবারও বনে ছেড়ে দেওয়া হবে।

বন বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, শীত মৌসুমে হিমালয় ও আশপাশের পাহাড়ি অঞ্চল থেকে বিভিন্ন প্রজাতির পরিযায়ী শকুন বাংলাদেশে আসে। দীর্ঘ পথ উড়ে আসার সময় কোনো কোনো পাখি ক্লান্ত বা দুর্বল হয়ে লোকালয়ে আশ্রয় নেয়। দিনাজপুরের সিংড়া ফরেস্ট শকুনের চিকিৎসা, সংরক্ষণ ও পুনর্বাসনের জন্য পরিচিত। সেখানে উদ্ধার করা শকুনকে চিকিৎসা শেষে আবার প্রাকৃতিক পরিবেশে ফিরিয়ে দেওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে।

এদিকে বন্যপ্রাণী ও পরিযায়ী পাখির সুরক্ষায় স্থানীয়দের সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়েছে বন বিভাগ। কোনো বন্যপ্রাণীকে আহত, অসুস্থ কিংবা বিপদগ্রস্ত অবস্থায় দেখলে নিজেরা ধরার চেষ্টা না করে দ্রুত বন বিভাগকে খবর দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট খবর

Back to top button