২৫ কোটি টাকার সড়কের মাঝে শতাধিক বৈদ্যুতিক খুঁটি

বাংলা টিভি ডেস্ক: নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে কাঞ্চন-ডাঙ্গা সড়কের প্রায় পাঁচ কিলোমিটার অংশে বিদ্যুতের খুঁটি রেখেই শেষ করা হচ্ছে সড়ক নির্মাণকাজ। স্থানীয়দের বারবার অনুরোধের পরও সরানো হয়নি এসব খুঁটি। এর মধ্যে ৪৬টি খুঁটি রয়েছে সড়কের একেবারে মাঝখানে। ফলে নতুন সড়ক চালুর আগেই যানবাহন ও পথচারীদের চলাচল নিয়ে তৈরি হয়েছে উদ্বেগ। বাড়ছে দুর্ঘটনার আশঙ্কাও।
স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, দ্রুত এসব খুঁটি সরানো না হলে সড়কটি পুরোপুরি চালু হওয়ার পর বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। তাদের দাবি, সড়কটি উদ্বোধনের আগেই বিদ্যুতের খুঁটিগুলো অপসারণ করে চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হোক।
সরেজমিনে দেখা গেছে, নতুন করে নির্মিত সড়কের বিভিন্ন স্থানে সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে রয়েছে পুরোনো বিদ্যুতের খুঁটি। কোনোটি সড়কের মাঝ বরাবর, আবার কোনোটি যানবাহন চলাচলের জায়গা দখল করে আছে। কোথাও খুঁটিগুলো রাস্তার একেবারে পাশে অবস্থান করছে। সড়কটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন না হলেও বর্তমানে অটোরিকশাসহ ছোট যানবাহন চলাচল করছে। খুঁটিগুলোর কারণে এসব যানবাহনকে সতর্কতার সঙ্গে চলাচল করতে হচ্ছে।
স্থানীয়দের আশঙ্কা, সড়কটি পুরোপুরি চালু হলে ভারী যানবাহন চলাচলের সময় বিপদের মাত্রা আরও বাড়বে।
কাঞ্চন পৌরসভা ও ভোলাবো ইউনিয়নের সঙ্গে নরসিংদীর পলাশ, ঘোড়াশালসহ আশপাশের এলাকার যোগাযোগের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ এই সড়ক। সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের (সওজ) আওতাধীন পাঁচ কিলোমিটার সড়কটি নির্মাণে ব্যয় ধরা হয়েছে ২৫ কোটি ৬২ লাখ ৪৪ হাজার টাকা।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সড়ক নির্মাণের পরিকল্পনার শুরু থেকেই বিদ্যুতের খুঁটি সরানোর বিষয়টি সামনে আসে। এ জন্য সওজ নারায়ণগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২-এর কাছে আবেদন করে। জবাবে খুঁটি স্থানান্তরের ব্যয় নির্ধারণ করে সেই অর্থ জমা দিতে বলা হয়। কিন্তু নির্ধারিত সময়ে অর্থ পরিশোধ না করায় খুঁটিগুলো সরানো সম্ভব হয়নি। এদিকে থেমে থাকেনি সড়কের নির্মাণকাজ। ফলে বিদ্যুতের খুঁটি রেখেই প্রায় ৯৫ শতাংশ কাজ শেষ করেছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান।
সওজ সূত্র জানায়, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে প্রায় ২৫ কোটি টাকা ব্যয়ে সড়কটি ২৪ ফুট প্রশস্ত করে পুনর্নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। সড়কের প্রায় সাড়ে চার কিলোমিটার অংশে শতাধিক পল্লী বিদ্যুতের খুঁটি রয়েছে। এর মধ্যে ৪৬টি খুঁটি সড়কের মূল অংশের মধ্যে পড়েছে।
খুঁটিগুলো সরাতে পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ ক্ষতিপূরণের অর্থ পরিশোধের শর্ত দিয়েছিল। তবে প্রকল্পের বাজেটে এ খাতে বরাদ্দ না থাকায় তাৎক্ষণিকভাবে অর্থ দেওয়া সম্ভব হয়নি। এ অবস্থায় খুঁটি রেখেই নির্মাণকাজ প্রায় শেষ করা হয়।
এদিকে সড়কের ওপর বিদ্যুতের খুঁটি থাকায় প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনার আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। খুঁটি এড়িয়ে চলতে গিয়ে অনেক সময় চালকদের সড়কের বিপরীত পাশ দিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে। এতে যানবাহনের ভারসাম্য হারিয়ে দুর্ঘটনার ঘটনাও ঘটছে বলে জানিয়েছেন তারা।
ভোলাবো ইউনিয়নের পাইস্কা গ্রামের বাসিন্দা কাজী রেজাউল হক বলেন, সড়কের ওপর বিদ্যুতের খুঁটি থাকায় যানবাহন ও পথচারীদের স্বাভাবিক চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। নতুন সড়ক নির্মিত হলেও খুঁটি অপসারণ না করায় এর কাঙ্ক্ষিত সুবিধা পাওয়া যাচ্ছে না। দ্রুত এগুলো সরানো জরুরি।
কাঞ্চন পৌরসভার বিরাবো গ্রামের বাসিন্দা আনোয়ার হোসেন বলেন, রাস্তার মাঝখানে খুঁটি থাকায় সব সময় দুর্ঘটনার ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে। বিশেষ করে রাতে এসব খুঁটি এড়িয়ে চলতে গিয়ে চালকদের বেশি সমস্যায় পড়তে হয়। এতে দুর্ঘটনার আশঙ্কাও বেড়ে যায়।
নারায়ণগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২-এর সিনিয়র জেনারেল ম্যানেজার আবুল বাশার আজাদ জানান, সড়কের মাঝখানে থাকা খুঁটিগুলো সরানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এ জন্য সমিতির নিজস্ব ঠিকাদারকে কার্যাদেশ দেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে নয়টি খুঁটি অপসারণের কাজ শেষ হয়েছে। আগামী দুই মাসের মধ্যে বাকি কাজ সম্পন্ন করা সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
অন্যদিকে সওজের নারায়ণগঞ্জের নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুর রহিম বলেন, বিদ্যুতের খুঁটি সরানোর জন্য প্রয়োজনীয় বাজেট চেয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে প্রধান কার্যালয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে। এখনো বরাদ্দ পাওয়া যায়নি। বাজেট হাতে পেলেই পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষকে নির্ধারিত অর্থ পরিশোধ করা হবে। তবে এর মধ্যেই খুঁটি অপসারণের কাজ শুরু করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ জানানো হয়েছে।



