‘বিপদগামী যুবসমাজকে আলোর পথে ফেরাতে ইসলামি অনুশাসন অপরিহার্য’

বাংলা টিভি ডেস্ক: বিপথগামী তরুণ প্রজন্মকে সঠিক পথে ফিরিয়ে আনতে ইসলামি শিক্ষা ও অনুশাসনের চর্চা বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ড. খন্দকার মারুফ হোসেন।
তিনি বলেন, সমাজে আইনশৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা, মাদক নিয়ন্ত্রণ এবং শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিত করতে ইসলামি অনুশাসন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। পবিত্র কোরআন ও মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর সুন্নাহ অনুসরণ করে সমাজ গড়ে তুলতে পারলে সামাজিক অবক্ষয় ও বিশৃঙ্খলা কমিয়ে আনা সম্ভব। এ ক্ষেত্রে মসজিদ ও মাদ্রাসায় আলেমদের ধর্মীয় আলোচনা আদর্শবান ও নৈতিকতাসম্পন্ন মানুষ গঠনে সহায়ক হবে।
শুক্রবার (৬ নভেম্বর) রাতে কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলার আটিপাড়া দারুল উলুম নূরানীয়া হাফেজিয়া মাদ্রাসা মাঠে আয়োজিত বার্ষিক ওয়াজ মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মাদকবিরোধী বক্তব্যে পবিত্র কোরআনের সূরা মায়েদার ৯০ ও ৯১ নম্বর আয়াতের উদ্ধৃতি দিয়ে খন্দকার মারুফ বলেন, মদ, জুয়া ও অন্যান্য নেশাজাতীয় কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দিয়েছেন মহান আল্লাহ। এসব কাজ মানুষের মধ্যে শত্রুতা ও বিদ্বেষ সৃষ্টি করে এবং আল্লাহর স্মরণ ও নামাজ থেকে দূরে সরিয়ে দেয়।
তিনি বলেন, মসজিদের মুসল্লি ও মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের কাছে মাদক এবং অন্যান্য হারাম বিষয় সম্পর্কে কোরআন-হাদিসের নির্দেশনা তুলে ধরতে হবে। ইসলামি বিশেষজ্ঞদের মাধ্যমে এ বিষয়ে সচেতনতা বাড়ানো গেলে সমাজে মাদকের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ আরও জোরালো হবে।
দেশে মাদকের বিস্তার নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বিএনপির এই নেতা বলেন, প্রায় ৯০ শতাংশ মুসলমানের দেশে হালাল পণ্যের মতো ইয়াবাসহ বিভিন্ন ধরনের মাদকদ্রব্য অবাধে কেনাবেচা হচ্ছে। তরুণ ও কিশোরদের এই ভয়াবহ আসক্তি থেকে রক্ষা করা এখন জরুরি হয়ে পড়েছে।
তিনি আরও বলেন, মাদকাসক্ত তরুণরা পরিবার, সমাজ ও দেশের জন্য ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে না। তাই মাদককে সামাজিকভাবে প্রত্যাখ্যান করতে হবে এবং মাদক কারবারি ও মাদকসেবীদের বিরুদ্ধে সম্মিলিত প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে।
ইসলামে সব ধরনের নেশাদ্রব্য নিষিদ্ধ উল্লেখ করে খন্দকার মারুফ বলেন, মহানবী (সা.)-এর হাদিসেও নেশা সৃষ্টিকারী প্রতিটি বস্তুকে হারাম ঘোষণা করা হয়েছে। যে বস্তু বেশি পরিমাণে গ্রহণ করলে নেশা তৈরি করে, তার সামান্য পরিমাণও নিষিদ্ধ। তাই মুসলিম সমাজে মাদকের কোনো গ্রহণযোগ্যতা থাকতে পারে না।
মাদকের বিরুদ্ধে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, মাদকের ভয়াবহ বিস্তার থেকে দেশ ও জাতিকে রক্ষা করতে সব শ্রেণি-পেশার মানুষকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। মাদক গ্রহণ ও বেচাকেনা বন্ধে সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্ব পালন করতে হবে।
এ সময় কিশোর গ্যাংয়ের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড নিয়েও উদ্বেগ জানান তিনি। এসব অপরাধ নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি সমাজের বিত্তশালী ও সচেতন ব্যক্তিদেরও এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে দাউদকান্দি পৌর বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক নূর মোহাম্মদ সেলিম সরকার, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক পিটার চৌধুরী, বিএনপি নেতা কাজী শাহীনুর, পৌর যুবদলের আহ্বায়ক শরীফ চৌধুরী, দাউদকান্দি যুবদলের সদস্য সচিব রোমান খন্দকার, বিএনপি নেতা আলী আকবর, ইব্রাহীম খলিল ও ইয়াকুব আলীসহ স্থানীয় নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।



