লিবিয়ায় অপহরণ ও হত্যার ঘটনায় বাংলাদেশি দালালরাও জড়িত

লিবিয়ায় ২৬ জন বাংলাদেশিকে অপহরণ এবং হত্যার ঘটনায় বাংলাদেশি দালালরাও জড়িত রয়েছে, এমন তথ্য উঠে এসেছে তদন্তে। দেশে এবং প্রবাসে অসাধু বাংলাদেশি দালালদের একটি চক্র, লিবিয়ার স্থানীয় দুর্বৃত্তদের সাথে যোগ দিয়ে প্রায়ই এ ধরনের ঘটনা ঘটায় বলে জানিয়েছে দূতাবাস।
তারা বাংলাদেশিদেরকে অবৈধ অভিবাসনে উদ্বুদ্ধ করে দেশের বাইরে নিয়ে জিম্মি করে পরিবারের কাছ থেকে লক্ষ লক্ষ টাকা মুক্তিপন আদায় করে। দেশ থেকে অনেক দূরে থাকায় নিজেদেরকে সম্পূর্ণ নিরাপদ মনে করেন এসব দুর্বৃত্তরা। তাদের গুলিতেও প্রবাসীরা মারা গিয়ে থাকতে পারে বলে সন্দেহ প্রকাশ করেছে পুলিশ।
লিবিয়ায় দুর্বৃত্তদের গুলিতে নিহত ২৬ জন বাংলাদেশির ১৪ জনই মাদারীপুর জেলার অধিবাসী। তারা দালালদের প্ররোচনায় অবৈধ পথে প্রবাসে পাড়ি জমাতে গিয়ে নিজেদের প্রাণ হারিয়েছেন। সম্প্রতি তদন্তে উঠে এসেছে যে, ঐ বাংলাদেশিদেরকে হত্যার ঘটনায় বাংলাদেশিরাও জড়িত রয়েছে।
লিবিয়ার বাংলাদেশ দূতাবাস সূত্রে জানা যায়, লিবিয়ায় মাফিয়া গ্যাংয়ের নাম দিয়ে বাংলাদেশিদের অপহরণ এবং মুক্তিপন আদায়ের এ ঘৃণ্য চক্রান্তে কিছু সংখ্যক বাংলাদেশিও দীর্ঘদিন ধরে জড়িত রয়েছে। তারা স্থানীয়দের সাথে যোগ দিয়ে এসব অপকর্ম চালিয়ে আসছে বলে জানা গেছে।
দালালরা সহজ সরল বাংলাদেশিদেরকে মুম্বাই থেকে দুবাই, দুবাই থেকে মিশর, মিশর থেকে লিবিয়া এবং লিবিয়া থেকে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে ইতালী যাওয়ার স্বপ্ন দেখিয়ে তাদেরকে দেশের বাইরে নিয়ে যায়। এরপর সুযোগ বুঝে তাদেরকে বন্দী করে। তাদের উপর শারীরিক নির্যাতন চালায় ও তার ছবি তুলে এবং তাদের আর্তনাদ রেকর্ড করে স্বজনদের কাছে পাঠিয়ে মুক্তিপন দাবী করে। মুক্তিপন না পেলে হত্যার হুমকি দেয়।
প্রিয়জনদেরকে বাঁচাতে স্বজনরা প্রয়োজনে সর্বস্ব বিক্রি করে হলেও টাকা পাঠায়। কিন্তু প্রায়ই তাদের মুক্তি মেলেনা। দালালদের প্রতারণায় অকালে প্রাণ হারায় এসব মানুষ। দালালদেরকে গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেয়া হোক, এমনটাই প্রত্যাশা সকলের।
মেহেদী হাসান সোহাগ, মাদারীপুর প্রতিনিধি



