প্রায় এক যুগ শিকল বন্দী আদিবাসী নিরপতি কোচ

প্রায় এক যুগ ধরে শেকলে বন্দী শেরপুরের এক আদিবাসী নারী। প্রতিবন্ধী হওয়ায় বেঁধে রাখা হয়েছে গাছের সাথে। শেকলেই বন্দী জীবন তার। জমিজমা সহায় সম্বল সব বিক্রি করে চিকিৎসা করালেও, এখন বন্ধ রয়েছে তার চিকিৎসা সেবা। প্রতিবন্ধী হলেও, জোটেনি প্রতিবন্ধী ভাতা। তবে ভাতাসহ সার্বিকভাবে সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছে উপজেলা প্রশাসন।
শেরপুরের ঝিনাইগাতী উপজেলার নওকুচি গ্রামের বাসিন্দা তিনি। গত পনেরো বছর আগেও সুস্থ্য স্বাভাবিক জীবন ছিল তার। বিয়ের পর প্রথম সন্তান জন্ম দেয়ার তিনবছর পর, হঠাৎ মানসিক ভারসাম্যহীন হয়ে পড়েন নিরপতি কোচ। জমিজমা বিক্রি করে চিকিৎসা করানো হলেও সুস্থ্য না হওয়ায়, বেঁধে রাখা হয় তাকে।
এদিকে, সহায় সম্বল সব বিক্রি করে মানবেতর জীবন যাপন করছে তার পরিবার। একবছর আগে মারা যায় তার স্বামী। সন্তান বড় হয়ে জীবিকার তাগিদে কাজ করছে অন্যের দোকানে। কিন্তু নিরপতি কোচের স্মৃতি আটকে আছে, ১২ বছর আগেই। তাকে সঠিক চিকিৎসা করালে, সুস্থ্য জীবনে ফিরবে আশা, স্বজন ও স্থানীয়দের। আর এজন্য প্রয়োজন সরকারী সহায়তা।
অন্যদিকে, দ্রুত সময়ের মধ্যে নিরপতি কোচের প্রতিবন্ধী ভাতা ও চিকিৎসার জন্য সরকারী সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন ঝিনাইগাতী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রুবেল মাহমুদ।
মানসিক ভারসাম্যহীন নিরপতি কোচকে আবারো স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনতে সহায়তা দেবে সরকার, এমন প্রত্যাশা স্থানীয়দের।
শাকিল মুরাদ, শেরপুর প্রতিনিধি



