
বাংলা কথা-সাহিত্যের জাদুকর হুমায়ূন আহমেদের আজ অষ্টম মৃত্যুবার্ষিকী। ২০১২ সালের এই দিনে লোকান্তরে গেলেও, এখনও তিনি বাস করছেন পাঠক, দর্শকের মনে। মৃত্যুর আট বছর পরও, তার সব গ্রন্থ সর্বোচ্চ বিক্রির তালিকায় স্থান করে নেয়; দর্শক মনে কঠিন রেখাপাত তার হৃদয়স্পর্শী চলচ্চিত্র।
প্রতিনিয়তই পাঠক-দর্শকের কাছে প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠছেন বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী, নন্দিত এই নির্মাতা, কথাসাহিত্যিক।
১৯৪৮ সালের ১৩ নভেম্বর নেত্রকোনার কেন্দুয়া উপজেলার কুতুবপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন হুমায়ূন আহমেদ। পড়াশোনা শেষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের অধ্যাপক হিসেবে দীর্ঘকাল কর্মরত ছিলেন। পরে লেখালেখির কারণে অধ্যাপনা ছেড়ে দেন। প্রথম উপন্যাস নন্দিত নরকে দিয়েই জয় করে নেন অগণিত পাঠকের হৃদয়।
হুমায়ূন আহমেদ উপন্যাসে নিজের প্রতিভার বিস্তার ঘটলেও তার শুরুটা ছিল কবিতা দিয়ে। এরপর শিশুসাহিত্য, বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনী, নাটক, চলচ্চিত্র পরিচালনা থেকে শিল্প-সাহিত্যের প্রতিটি ক্ষেত্রেই তিনি রেখে গেছেন নিজ প্রতিভার অনন্য স্বাক্ষর।
তার প্রকাশিত গ্রন্থের সংখ্যা তিন শতাধিক। সৃষ্টি করেছেন হিমু, মিসির আলীসহ বাংলা সাহিত্যের তুমুল জনপ্রিয় বেশ কয়েকটি চরিত্র। বাংলা সাহিত্যে অসামান্য অবদান রাখায় হুমায়ূন আহমেদ একুশে পদক, বাংলা একাডেমি পুরস্কারসহ অংসখ্য পুরস্কার লাভ করেন। শ্রেষ্ঠ পরিচালকসহ তার চলচ্চিত্রও লাভ করে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার।
ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে ২০১২ সালের ১৯ জুলাই ৬৪ বছর বয়সে আমেরিকার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান বাংলাদেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় এই লেখক। তার মৃত্যুর শোক আজো কাটেনি ভক্ত-পাঠকদের হৃদয় থেকে। হুমায়ূন নেই, কিন্তু তিনি বেঁচে আছেন কোটি ভক্ত-পাঠকের হৃদয়ে।
আসাদ রিয়েল, বাংলা টিভি



