দেশবাংলা

অপরিবর্তিত রয়েছে দেশের বন্যা পরিস্থিতি

উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ী ঢল আর টানা বর্ষণে বন্যা পরিস্থিতি অপরিবর্তিত রয়েছে। চরম মানবেতর জীবনযাপন করছে পানিবন্দি মানুষ। ভাঙ্গনের হুমকিতে রয়েছে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা। তবে যা সাহায্য মিলছে তা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল।

সিরাজগঞ্জে যমুনার পানি ধীর গতিতে কমলেও অভ্যন্তরীণ নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় প্রতিদিনই পানিবন্দী মানুষের সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। জেলার পানিবন্দী প্রায় সাড়ে তিন লাখ মানুষের বিশুদ্ধ পানি আর শুকনো খাবারের সাথে দেখা দিয়েছে গো খাদ্যের সংকটও।

জামালপুরে আবারও বাড়ছে যমুনার পানি। বুধবার সকালে বাহাদুরাবাদ পয়েন্টে বিপদসীমার ৮২ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে। গতরাতে সরিষাবাড়ির ২শ মিটারের একটি ব্রিজ পানির তোড়ে নদীতে বিলীন হয়ে উপজেলা সদরের সাথে যোগাযোগ বিছিন্ন হয়ে গেছে। যত দিন যাচ্ছে দুর্ভোগ বাড়ছে জেলার ৭ উপজেলার প্রায় ১০ লাখ পানিবন্দি মানুষের।

কুড়িগ্রামে ব্রহ্মপুত্রের পানি চিলমারী পয়েন্টে বিপদসীমার ৪৩, নুনখাওয়া পয়েন্টে ৩০ ও ধরলার পানি সেতু পয়েন্টে বিপদসীমার ৫২ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এদিকে তিস্তার স্রোতে রাজারহাট উপজেলার বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ ভেঙ্গে কয়েক শতাধিক ঘর-বাড়ি প্লাবিত হয়েছে।

মানিকগঞ্জে গত ২৪ ঘন্টায় কালীগঙ্গার পানি বিপদসীমার ১৬ এবং আরিচা পয়েন্টে যমুনার পানি বিপদসীমার ৬০ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এতে হরিরামপুর উপজেলার ৫ টি আশ্রয় কেন্দ্রে ১৭৮ টি পরিবার এবং দৌলতপুর উপজেলায় ৬০টি পরিবার আশ্রয় নিয়েছে। বন্যায় জেলার ২২ হাজার হেক্টর জমির ফসল তলিয়ে গেছে।

এদিকে, টানা বর্ষায় নরসিংদীর গুরুত্বপূর্ণ সড়ক পানিতে তলিয়ে যানবাহনসহ জনসাধারণের চলাচলে বিঘ্ন ঘটার পাশাপাশি ঘটছে দূর্ঘটনাও। সড়কে অতিরিক্ত পানি ওঠার ফলে ড্রেনের ময়লা ও বিভিন্ন কারখানার ক্যামিকেল মিশ্রিত পানি সংযুক্ত হয়ে বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। তাই দ্রুত ড্রেনেজ ব্যবস্থা মেরামতের মাধ্যমে জলাবদ্ধতা নিরসনের দাবি স্থানীয়দের।

উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া উপজেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। তলিয়ে গেছে সবজি ক্ষেত, ফসলি জমি, পুকুরসহ রাস্তাঘাট। জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে আখাউড়া ইমিগ্রেশন চেকপোস্ট কার্যালয়ে।

এছাড়া, চাঁদপুরে ঢলের পানিতে ত্রি-নদীর মোহনায় পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। সকালে মেঘনা-ডাকাতিয়া নদীর পানি বিপদসীমার ৫৩ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। অব্যাহতভাবে পানি বৃদ্ধিতে  প্লাবিত হয়েছে জেলার নিম্নাঞ্চল।

ডেক্স রিপোর্ট, বাংলা টিভি

সংশ্লিষ্ট খবর

Back to top button