পানিবাহিত রোগে ভুগছেন বানভাসিরা

দীর্ঘ এক মাসে দেশের ৩১টি জেলা বন্যা কবলিত হয়েছে। উত্তর ও পূর্বাঞ্চলে নদনদীর পানি কিছুটা কমলেও, বেশীরভাগ এলাকা এখনও পানির নীচে। পানিবন্দী লাখো মানুষের দুর্ভোগ এখন চরমে। আর দিনদিন নদী ভাঙন তীব্র হওয়ায় বাড়ছে ঘরবাড়ি হারা মানুষের সংখ্যা।
এছাড়া বেশ কয়েকটি বাঁধ ভাঙায় ঘরবাড়ি, পথঘাট, ফসলী জমি এখনও পানির নীচে। খাবার পানি ও খাদ্য সংকটে বানভাসি মানুষ। দেখা দিয়েছে পানি বাহিত নানা রোগ।
উত্তরাঞ্চলে বন্যার পরিস্থিতি কিছুটা উন্নতি হলে, দুর্ভোগ কমেনি এসব এলাকা বানভাসি মানুষদের। প্রায় এক মাস ধরে ব্রহ্মপুত্র, ধরলা, করতোয়া নদ-নদীর পানি বিপদসীমার উপর স্থিতিশীল থাকায় চরাঞ্চল ও নিম্নাঞ্চলের প্রায় কয়েক লাখ মানুষ পানিবন্দি। এসব নদীর প্রায় ৩০টি পয়েন্টে দেখা দিয়েছে তীব্র ভাঙ্গন। ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে শহর রক্ষা বাধ।
এদিকে, সিরাজগঞ্জে যমুনা নদীর পানি বাড়ছেই, সাথে অব্যাহত আছে অভ্যন্তরীণ নদ-নদীর পানি। ফলে জেলার সার্বিক বন্যা পরিস্থিতির আরো অবনতি হয়েছে। বিশুদ্ধ পানি আর শুকনো খাবারের সাথে গো খাদ্যেরও সংকট দেখা দিয়েছে দুর্গত এলাকায়।
একইসঙ্গে মধ্যাঞ্চলেও নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। গাজীপুরের নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় জেলার কালিয়াকৈরের শ্রীফলতলী,সুত্রাপুর ও ঢালজোড়া ইউনিয়নের প্রায় ৫৯টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। এসব অঞ্চলের ফসল ও সবজি ক্ষেত পানিতে ডুবে যাওয়া ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে কৃষক ও খামারীরা। পানিতে ডুবে গেছে এসব গ্রামের পাকা ও কাঁচা রাস্তা।
অন্যদিকে, ফরিদপুর জেলার সার্বিক বন্যা পরিস্থিতি আরো অবনতি হয়েছে। গত ২৪ ঘন্টায় পদ্মা, মধুমতি, আড়িয়াল খাঁ নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। বানভাসী এসব এলাকায় দেখা দিয়েছে, শুকনো খাবার, বিশুদ্ধ পানি ও গো খাদ্যের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে।
মুন্সীগঞ্জে পদ্মাপাড়ের ৩ উপজেলার ১৩টি ইউনিয়নের অধিকাংশ এলাকা প্লাবিত হয়েছে। পানিবন্দি প্রায় ৭০ হাজার মানুষ। পানিবন্দী এসব মানুষ ভুগছে পানি বাহিত নানা রোগে।
ডেস্ক রিপোর্ট, বাংলা টিভি



